ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দেবীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা ১১ দিনে ২৩ জনের জেল



দেবীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা ১১ দিনে ২৩ জনের জেল
ছবি : প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তবে সম্প্রতি প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ফলে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে।

গত ১১ দিনে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মানিকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ২৩ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ফল পাওয়া গেছে। ২৫ মার্চ দন্ডপাল ইউনিয়নে একজনকে, ২৮ মার্চ দেবীগঞ্জ পৌর এলাকায় একজনকে এবং ২৯ মার্চ পৃথক অভিযানে আরও তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়। একইদিনে নতুন বন্দর এলাকা ও পামুলী ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তিন মাদক ব্যবসায়ীকে ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়।

৩০ মার্চ পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে ৬ মাস থেকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ১ এপ্রিল আরও একজনকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৪ এপ্রিল চিলাহাটি ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সর্বশেষ ৪ এপ্রিল দেবীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন যুবককে আটক করা হয় এবং চিলাহাটি ইউনিয়নের নগর ভাউলাগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযানে ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রশাসনের এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলে এলাকায় মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে দেবীগঞ্জে মাদকবিরোধী পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।

স্থানীয় সাংবাদিক নাজমুস সাকিব মুন বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই পদক্ষেপে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, অভিযান ধারাবাহিকভাবে চললে কার্যকর ফলাফল পাওয়া যাবে, তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মানিক বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। পুলিশ ও প্রশাসন যৌথভাবে মাদক নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ১১ দিনে ২৩ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


দেবীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা ১১ দিনে ২৩ জনের জেল

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তবে সম্প্রতি প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ফলে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে।

গত ১১ দিনে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মানিকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ২৩ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ফল পাওয়া গেছে। ২৫ মার্চ দন্ডপাল ইউনিয়নে একজনকে, ২৮ মার্চ দেবীগঞ্জ পৌর এলাকায় একজনকে এবং ২৯ মার্চ পৃথক অভিযানে আরও তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়। একইদিনে নতুন বন্দর এলাকা ও পামুলী ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তিন মাদক ব্যবসায়ীকে ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়।

৩০ মার্চ পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে ৬ মাস থেকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ১ এপ্রিল আরও একজনকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৪ এপ্রিল চিলাহাটি ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সর্বশেষ ৪ এপ্রিল দেবীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন যুবককে আটক করা হয় এবং চিলাহাটি ইউনিয়নের নগর ভাউলাগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযানে ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রশাসনের এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলে এলাকায় মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে দেবীগঞ্জে মাদকবিরোধী পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।

স্থানীয় সাংবাদিক নাজমুস সাকিব মুন বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই পদক্ষেপে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, অভিযান ধারাবাহিকভাবে চললে কার্যকর ফলাফল পাওয়া যাবে, তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মানিক বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। পুলিশ ও প্রশাসন যৌথভাবে মাদক নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ১১ দিনে ২৩ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ