ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরান যুদ্ধের প্রভাব : ভারতের “কনডম” শিল্প সংকটে


আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাব : ভারতের “কনডম” শিল্প সংকটে
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। এই প্রভাব এবার সরাসরি পড়ছে ভারতের কনডম উৎপাদন খাতে। ভারতের বড় উৎপাদক দেশগুলোর একটি হিসেবে সেই খাত এখন কাঁচামালের ঘাটতি ও সরবরাহ‑জটের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

কনডমের উৎপাদন মোটেও চাহিদা‑ভিত্তিক কারণে কমছে না। সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাব। কনডম তৈরির জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যেমন সিলিকন অয়েল (লুব্রিকেন্ট হিসেবে), অ্যামোনিয়া (ল্যাটেক্স স্থিতিশীল রাখতে), পিভিসি ও অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল (প্যাকেজিং) সবই পেট্রোকেমিক্যাল আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরশীল। এই উপাদানগুলোর উৎপাদন ও রপ্তানি প্রাথমিকভাবে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত। যুদ্ধের কারণে স্ট্রেইট অফ হরমুজসহ নৌপথে অস্থিরতা ও পরিবহন বিলম্বে সরবরাহ ঝাঁকুনি খাচ্ছে।

সরবরাহ বিঘ্নের কারণে কাঁচামালের দাম বাড়ছে। বিশেষ করে অ্যামোনিয়া ও সিলিকন অয়েলের দাম ৪০‑৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা উৎপাদন খরচকে অনির্দেশ্য করে তুলছে। উৎপাদনকারীরা বলছেন, লজিস্টিক সমস্যাও তীব্রভাবে চাপ তৈরি করছে, এবং অনেক কারখানায় কাঁচামাল সময়মতো পৌঁছাচ্ছে না।

ভারতের বার্ষিক প্রায় ৪৫০ কোটি কনডম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলি যেমন এইচএলএল লাইফকেয়ার, ম্যানকাইন্ড ফার্মা ও কিউপিড লিমিটেডসহ অংশীদাররা এই সংকটের মুখে পড়েছে।

সরবরাহ সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যে খুচরা পর্যায়ে জাঁকিয়ে ওঠা শুরু করেছে। বড় শহরগুলোর ফার্মেসিতে কনডম পাওয়া কমে গেছে এবং দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দাম বাড়লে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পণ্যটি তুলনামূলকভাবে অপ্রত্যাশিত ও কম‑লভ্য হবে।

কনডম শুধু একটা পণ্য নয়; এটি পরিবার পরিকল্পনা এবং যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি দাম বেড়ে বা সংস্থান কমে যায়, তাহলে এর ব্যবহার কমে যেতে পারে। এর ফলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ, যৌন সংক্রামক রোগের বিস্তার এবং জনস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এই দিকটিও গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করেছেন।

ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় কনডম উৎপাদক দেশ; ২০২৪ সালে প্রায় ৬.৪ অঁশ (বিলিয়ন) কনডম উৎপাদন করা হয়েছিল, যা বিশ্ব মোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই খাতের ওপর পশ্চিম এশিয়ার সরবরাহ চেইন ভঙ্গ হলে গ্লোবাল মার্কেটে প্রভাব পড়তে পারে

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইরান যুদ্ধের প্রভাব : ভারতের “কনডম” শিল্প সংকটে

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। এই প্রভাব এবার সরাসরি পড়ছে ভারতের কনডম উৎপাদন খাতে। ভারতের বড় উৎপাদক দেশগুলোর একটি হিসেবে সেই খাত এখন কাঁচামালের ঘাটতি ও সরবরাহ‑জটের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

কনডমের উৎপাদন মোটেও চাহিদা‑ভিত্তিক কারণে কমছে না। সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাব। কনডম তৈরির জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যেমন সিলিকন অয়েল (লুব্রিকেন্ট হিসেবে), অ্যামোনিয়া (ল্যাটেক্স স্থিতিশীল রাখতে), পিভিসি ও অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল (প্যাকেজিং) সবই পেট্রোকেমিক্যাল আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরশীল। এই উপাদানগুলোর উৎপাদন ও রপ্তানি প্রাথমিকভাবে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত। যুদ্ধের কারণে স্ট্রেইট অফ হরমুজসহ নৌপথে অস্থিরতা ও পরিবহন বিলম্বে সরবরাহ ঝাঁকুনি খাচ্ছে।

সরবরাহ বিঘ্নের কারণে কাঁচামালের দাম বাড়ছে। বিশেষ করে অ্যামোনিয়া ও সিলিকন অয়েলের দাম ৪০‑৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা উৎপাদন খরচকে অনির্দেশ্য করে তুলছে। উৎপাদনকারীরা বলছেন, লজিস্টিক সমস্যাও তীব্রভাবে চাপ তৈরি করছে, এবং অনেক কারখানায় কাঁচামাল সময়মতো পৌঁছাচ্ছে না।

ভারতের বার্ষিক প্রায় ৪৫০ কোটি কনডম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলি যেমন এইচএলএল লাইফকেয়ার, ম্যানকাইন্ড ফার্মা ও কিউপিড লিমিটেডসহ অংশীদাররা এই সংকটের মুখে পড়েছে।

সরবরাহ সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যে খুচরা পর্যায়ে জাঁকিয়ে ওঠা শুরু করেছে। বড় শহরগুলোর ফার্মেসিতে কনডম পাওয়া কমে গেছে এবং দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দাম বাড়লে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পণ্যটি তুলনামূলকভাবে অপ্রত্যাশিত ও কম‑লভ্য হবে।

কনডম শুধু একটা পণ্য নয়; এটি পরিবার পরিকল্পনা এবং যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি দাম বেড়ে বা সংস্থান কমে যায়, তাহলে এর ব্যবহার কমে যেতে পারে। এর ফলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ, যৌন সংক্রামক রোগের বিস্তার এবং জনস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এই দিকটিও গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করেছেন।

ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় কনডম উৎপাদক দেশ; ২০২৪ সালে প্রায় ৬.৪ অঁশ (বিলিয়ন) কনডম উৎপাদন করা হয়েছিল, যা বিশ্ব মোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই খাতের ওপর পশ্চিম এশিয়ার সরবরাহ চেইন ভঙ্গ হলে গ্লোবাল মার্কেটে প্রভাব পড়তে পারে


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ