ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ভাঙ্গায় সম্পত্তি বিরোধে নারী হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার



ভাঙ্গায় সম্পত্তি বিরোধে নারী হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার
ছবি : প্রতিনিধি (ইনসেটে নিহত নারী)

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হাসিনা পারভীন মিনু (৪৭) নামে এক গৃহিণীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি আনিছুর রহমান (৪০) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে ভাঙ্গা থানাধীন পুলিয়া টু সূর্যনগর সার্ভিস লেনের উত্তর পাশে আড়িয়াল খাঁ নদীর ঢাল থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পরে এসআই (নিঃ) মোশারফ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হলে নিহতের ছেলে থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত হাসিনা পারভীন মিনু নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার তুষারধারা আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পরিবারের অভিযোগ, ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে একটি ফোন কল পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি তিনি। পরে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে লাশ ভাঙ্গা এলাকায় ফেলে যায়। 

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নিহতের সঙ্গে আসামি আনিছুর রহমানের দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল এবং তাদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ভিকটিমের একটি জমি কৌশলে হেবা দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে নেওয়ার অভিযোগে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান ছিল।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার দিন আনিছুর রহমান কৌশলে ভিকটিমকে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নেয়। পরে মোটরসাইকেলে করে পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙ্গার পুলিয়া এলাকায় নিয়ে আসে। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে এবং লাশ নদীর পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মোঃ রেজওয়ান দীপু-এর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। এসআই মশিউর রহমান ও মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিকে শনাক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে ১ এপ্রিল ২০২৬ সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভাঙ্গায় সম্পত্তি বিরোধে নারী হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হাসিনা পারভীন মিনু (৪৭) নামে এক গৃহিণীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি আনিছুর রহমান (৪০) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে ভাঙ্গা থানাধীন পুলিয়া টু সূর্যনগর সার্ভিস লেনের উত্তর পাশে আড়িয়াল খাঁ নদীর ঢাল থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পরে এসআই (নিঃ) মোশারফ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হলে নিহতের ছেলে থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত হাসিনা পারভীন মিনু নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার তুষারধারা আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পরিবারের অভিযোগ, ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে একটি ফোন কল পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি তিনি। পরে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে লাশ ভাঙ্গা এলাকায় ফেলে যায়। 

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নিহতের সঙ্গে আসামি আনিছুর রহমানের দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল এবং তাদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ভিকটিমের একটি জমি কৌশলে হেবা দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে নেওয়ার অভিযোগে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান ছিল।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার দিন আনিছুর রহমান কৌশলে ভিকটিমকে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নেয়। পরে মোটরসাইকেলে করে পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙ্গার পুলিয়া এলাকায় নিয়ে আসে। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে এবং লাশ নদীর পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মোঃ রেজওয়ান দীপু-এর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। এসআই মশিউর রহমান ও মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিকে শনাক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে ১ এপ্রিল ২০২৬ সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ