ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কক্সবাজার সৈকতে ভেসে এলো বিশালাকৃতির মৃত ডলফিন


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজার সৈকতে ভেসে এলো বিশালাকৃতির মৃত ডলফিন
সৈকতে ভেসে এলো মৃত ডলফিন

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালুচরে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে এসেছে ছয় ফুটেরও বেশি দীর্ঘ একটি মৃত ডলফিন। শনিবার ১৪ মার্চ সকালে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে অর্ধগলিত অবস্থায় সামুদ্রিক এই প্রাণীটিকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে একদিকে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ।

সৈকতে দায়িত্বরত লাইফগার্ড কর্মীরা প্রতিদিনের মতো সকালে টহল দেওয়ার সময় প্রথম প্রাণীটিকে দেখতে পান। লাইফগার্ড কর্মী জয়নাল আবেদীন ভুট্টু জানান, সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় ডলফিনটি যখন তাদের নজরে আসে, তখন সেটি বেশ জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। ডলফিনটির আকার ও শারীরিক গঠন দেখে প্রাথমিক ধারণায় এটি ‘ইরাবতি’ প্রজাতির বলে মনে করা হচ্ছে। বিরল ও সংরক্ষিত এই প্রজাতির ডলফিনের এমন মৃত্যু পরিবেশবিদদের ভাবিয়ে তুলছে।

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দিপু এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে ডলফিনটির শরীরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে মনে হচ্ছে এটি অন্তত তিন থেকে চার দিন আগে গভীর সমুদ্রে প্রাণ হারিয়েছে। তার মতে, অনেক সময় অসাধু জেলেদের জালে আটকা পড়ে কিংবা বড় জাহাজের ইঞ্জিনের পাখার আঘাতে এসব বুদ্ধিমান প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। পরে মৃতদেহটি সমুদ্রের ঢেউয়ের টানে তীরে এসে পৌঁছায়।

সৈকতে আসা পর্যটকদের অনেকেই এই দৃশ্য দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং ভিড় জমিয়ে ছবি তোলেন। যদিও সৈকতে মাঝেমধ্যে মৃত সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসার নজির রয়েছে, তবে প্রতিটি ঘটনাই সমুদ্রের বিপন্ন জীববৈচিত্র্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। পরিবেশকর্মীরা দাবি তুলেছেন যে সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষায় জেলেদের সচেতন করা এবং নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুতই ডলফিনটির দেহ অপসারণ এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


কক্সবাজার সৈকতে ভেসে এলো বিশালাকৃতির মৃত ডলফিন

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালুচরে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে এসেছে ছয় ফুটেরও বেশি দীর্ঘ একটি মৃত ডলফিন। শনিবার ১৪ মার্চ সকালে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে অর্ধগলিত অবস্থায় সামুদ্রিক এই প্রাণীটিকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে একদিকে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ।

সৈকতে দায়িত্বরত লাইফগার্ড কর্মীরা প্রতিদিনের মতো সকালে টহল দেওয়ার সময় প্রথম প্রাণীটিকে দেখতে পান। লাইফগার্ড কর্মী জয়নাল আবেদীন ভুট্টু জানান, সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় ডলফিনটি যখন তাদের নজরে আসে, তখন সেটি বেশ জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। ডলফিনটির আকার ও শারীরিক গঠন দেখে প্রাথমিক ধারণায় এটি ‘ইরাবতি’ প্রজাতির বলে মনে করা হচ্ছে। বিরল ও সংরক্ষিত এই প্রজাতির ডলফিনের এমন মৃত্যু পরিবেশবিদদের ভাবিয়ে তুলছে।

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দিপু এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে ডলফিনটির শরীরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে মনে হচ্ছে এটি অন্তত তিন থেকে চার দিন আগে গভীর সমুদ্রে প্রাণ হারিয়েছে। তার মতে, অনেক সময় অসাধু জেলেদের জালে আটকা পড়ে কিংবা বড় জাহাজের ইঞ্জিনের পাখার আঘাতে এসব বুদ্ধিমান প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। পরে মৃতদেহটি সমুদ্রের ঢেউয়ের টানে তীরে এসে পৌঁছায়।

সৈকতে আসা পর্যটকদের অনেকেই এই দৃশ্য দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং ভিড় জমিয়ে ছবি তোলেন। যদিও সৈকতে মাঝেমধ্যে মৃত সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসার নজির রয়েছে, তবে প্রতিটি ঘটনাই সমুদ্রের বিপন্ন জীববৈচিত্র্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। পরিবেশকর্মীরা দাবি তুলেছেন যে সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষায় জেলেদের সচেতন করা এবং নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুতই ডলফিনটির দেহ অপসারণ এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ