মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক নজিরবিহীন সামরিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরান, হিজবুল্লাহ এবং মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো অঞ্চল এখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের কৌশলগত দ্বীপ খারগে মার্কিন হামলা এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ইরানের 'ক্লাস্টার বোমা' বর্ষণের ঘটনা এই সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
খারগ দ্বীপে মার্কিন হামলা ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে 'ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী' বিমান হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এই হামলায় দ্বীপটির সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো পুরোপুরি ধ্বংস বা 'অবলিটারেটেড' হয়েছে। তবে বৈশ্বিক তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্বীপের তেল অবকাঠামোগুলোকে আপাতত লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হলে তিনি এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালাবেন।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহ ও ইরানের সমন্বিত আঘাত লেবানন সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলের আপার গ্যালিলি অঞ্চলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েলজুড়ে ইরানের ছোঁড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বেন গুরিয়েন বিমানবন্দরের নিকটবর্তী শোহাম শহরে একটি ভবনে আগুন ধরে যাওয়ায় কয়েক ডজন বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমির একটি বেদুইন গ্রামেও রকেট আঘাত হেনেছে, যেখানে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে যে ইরান এই হামলায় 'ক্লাস্টার বোমা' বা গুচ্ছবোমা ব্যবহার করেছে যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।
আঞ্চলিক প্রভাব ও মানবিক সংকট লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং প্রায় সাড়ে আট লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ব্রিটিশ জাহাজগুলো নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও এই সংঘাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে 'এপস্টেইন ফাইল' প্রকাশ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকলেও ইরান প্রশ্নে তিনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান বজায় রাখছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও তেলের বাজার হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই নৌপথ সচল রাখতে রণতরী মোতায়েন করলেও ইরানের 'অসম যুদ্ধ' কৌশলের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ইরান ও ইসরায়েল—উভয় পক্ষই বর্তমানে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে সামরিক শক্তি প্রদর্শনে অটল রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক নজিরবিহীন সামরিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরান, হিজবুল্লাহ এবং মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো অঞ্চল এখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের কৌশলগত দ্বীপ খারগে মার্কিন হামলা এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ইরানের 'ক্লাস্টার বোমা' বর্ষণের ঘটনা এই সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
খারগ দ্বীপে মার্কিন হামলা ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে 'ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী' বিমান হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এই হামলায় দ্বীপটির সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো পুরোপুরি ধ্বংস বা 'অবলিটারেটেড' হয়েছে। তবে বৈশ্বিক তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্বীপের তেল অবকাঠামোগুলোকে আপাতত লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হলে তিনি এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালাবেন।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহ ও ইরানের সমন্বিত আঘাত লেবানন সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলের আপার গ্যালিলি অঞ্চলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েলজুড়ে ইরানের ছোঁড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বেন গুরিয়েন বিমানবন্দরের নিকটবর্তী শোহাম শহরে একটি ভবনে আগুন ধরে যাওয়ায় কয়েক ডজন বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমির একটি বেদুইন গ্রামেও রকেট আঘাত হেনেছে, যেখানে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে যে ইরান এই হামলায় 'ক্লাস্টার বোমা' বা গুচ্ছবোমা ব্যবহার করেছে যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।
আঞ্চলিক প্রভাব ও মানবিক সংকট লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং প্রায় সাড়ে আট লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ব্রিটিশ জাহাজগুলো নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও এই সংঘাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে 'এপস্টেইন ফাইল' প্রকাশ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকলেও ইরান প্রশ্নে তিনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান বজায় রাখছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও তেলের বাজার হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই নৌপথ সচল রাখতে রণতরী মোতায়েন করলেও ইরানের 'অসম যুদ্ধ' কৌশলের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ইরান ও ইসরায়েল—উভয় পক্ষই বর্তমানে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে সামরিক শক্তি প্রদর্শনে অটল রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন