ইসলামি শরিয়তে সদকাতুল ফিতর একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ইবাদত, যা মূলত রমজানের সিয়াম সাধনার ভুলত্রুটি মার্জনা এবং অভাবী মানুষের ঈদের আনন্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিধান করা হয়েছে। এটি কেবল একটি দান নয়, বরং সামর্থ্যবান মুসলিমদের ওপর অর্পিত একটি ধর্মীয় দায়বদ্ধতা। এই ইবাদত যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রবাসীদের ফিতরা আদায়, চাল দিয়ে আদায়ের পদ্ধতি এবং আধুনিক লেনদেন সংক্রান্ত মাসআলাগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রবাসীদের ক্ষেত্রে ফিতরা আদায়ের প্রধান নিয়ম হলো দাতা যে দেশে অবস্থান করবেন, সেখানকার বাজারমূল্য অনুযায়ী হার নির্ধারণ করা। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি সৌদি আরবে কর্মরত থাকেন এবং বাংলাদেশে ফিতরা দিতে চান, তবে তাকে সৌদির হার অনুযায়ী অর্থ প্রেরণ করতে হবে। বাংলাদেশের সর্বনিম্ন হার দিলে এক্ষেত্রে ফিতরা আদায় হবে না। তবে দেশে অবস্থানরত স্ত্রী ও বালেগ সন্তানদের জন্য দেশীয় মূল্য অনুযায়ী ফিতরা দেওয়া বৈধ। ফিতরা আদায়ের জন্য হাদিসে বর্ণিত পাঁচটি দ্রব্যের (গম, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনির) যেকোনো একটির মূল্যকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। সামর্থ্যবানদের জন্য কেবল গমের সর্বনিম্ন মূল্যের ওপর নির্ভর না করে অপেক্ষাকৃত দামি দ্রব্য যেমন কিশমিশ বা পনিরের মূল্য অনুযায়ী সদকা দেওয়া তাকওয়ার পরিচায়ক।
বর্তমানে চাল দিয়ে ফিতরা আদায়ের প্রবণতা থাকলেও সরাসরি চালের হিসাব হাদিসে নেই। তাই চাল দিতে চাইলে ওপরের পাঁচটি দ্রব্যের যেকোনো একটির সমমূল্যের চাল দিতে হবে। এছাড়া আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন বিকাশ বা নগদে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে 'ক্যাশ আউট' চার্জ দাতাকেই বহন করতে হবে, যাতে গ্রহীতা পুরো টাকা হাতে পান। মনে রাখতে হবে যে জাকাতের নিসাবের সাথে ফিতরার নিসাবের সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে; প্রয়োজন অতিরিক্ত আসবাব বা জমি থাকলেও ফিতরা ওয়াজিব হতে পারে, এমনকি যারা রোজা রাখতে পারেননি তাদের ওপরও এই নিয়ম প্রযোজ্য।
সদকাতুল ফিতর আদায়ের সর্বোত্তম সময় হলো ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে, তবে দরিদ্রদের কেনাকাটার সুবিধার্থে রমজানের শেষ দিকেও তা প্রদান করা যায়। এই অর্থ কেবল অভাবী মুসলিমদের প্রাপ্য এবং তা সরাসরি গ্রহীতাকে মালিক বানিয়ে দিতে হয়। ফলে মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ বা জনকল্যাণমূলক কাজে এই অর্থ ব্যয় করলে ফিতরা আদায় হবে না। আত্মীয়দের মধ্যে যারা অভাবী, তাদের ফিতরা দেওয়া সবচেয়ে উত্তম কারণ এতে সদকা ও আত্মীয়তার হক—উভয় সওয়াবই অর্জিত হয়।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬
ইসলামি শরিয়তে সদকাতুল ফিতর একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ইবাদত, যা মূলত রমজানের সিয়াম সাধনার ভুলত্রুটি মার্জনা এবং অভাবী মানুষের ঈদের আনন্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিধান করা হয়েছে। এটি কেবল একটি দান নয়, বরং সামর্থ্যবান মুসলিমদের ওপর অর্পিত একটি ধর্মীয় দায়বদ্ধতা। এই ইবাদত যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রবাসীদের ফিতরা আদায়, চাল দিয়ে আদায়ের পদ্ধতি এবং আধুনিক লেনদেন সংক্রান্ত মাসআলাগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রবাসীদের ক্ষেত্রে ফিতরা আদায়ের প্রধান নিয়ম হলো দাতা যে দেশে অবস্থান করবেন, সেখানকার বাজারমূল্য অনুযায়ী হার নির্ধারণ করা। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি সৌদি আরবে কর্মরত থাকেন এবং বাংলাদেশে ফিতরা দিতে চান, তবে তাকে সৌদির হার অনুযায়ী অর্থ প্রেরণ করতে হবে। বাংলাদেশের সর্বনিম্ন হার দিলে এক্ষেত্রে ফিতরা আদায় হবে না। তবে দেশে অবস্থানরত স্ত্রী ও বালেগ সন্তানদের জন্য দেশীয় মূল্য অনুযায়ী ফিতরা দেওয়া বৈধ। ফিতরা আদায়ের জন্য হাদিসে বর্ণিত পাঁচটি দ্রব্যের (গম, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনির) যেকোনো একটির মূল্যকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। সামর্থ্যবানদের জন্য কেবল গমের সর্বনিম্ন মূল্যের ওপর নির্ভর না করে অপেক্ষাকৃত দামি দ্রব্য যেমন কিশমিশ বা পনিরের মূল্য অনুযায়ী সদকা দেওয়া তাকওয়ার পরিচায়ক।
বর্তমানে চাল দিয়ে ফিতরা আদায়ের প্রবণতা থাকলেও সরাসরি চালের হিসাব হাদিসে নেই। তাই চাল দিতে চাইলে ওপরের পাঁচটি দ্রব্যের যেকোনো একটির সমমূল্যের চাল দিতে হবে। এছাড়া আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন বিকাশ বা নগদে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে 'ক্যাশ আউট' চার্জ দাতাকেই বহন করতে হবে, যাতে গ্রহীতা পুরো টাকা হাতে পান। মনে রাখতে হবে যে জাকাতের নিসাবের সাথে ফিতরার নিসাবের সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে; প্রয়োজন অতিরিক্ত আসবাব বা জমি থাকলেও ফিতরা ওয়াজিব হতে পারে, এমনকি যারা রোজা রাখতে পারেননি তাদের ওপরও এই নিয়ম প্রযোজ্য।
সদকাতুল ফিতর আদায়ের সর্বোত্তম সময় হলো ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে, তবে দরিদ্রদের কেনাকাটার সুবিধার্থে রমজানের শেষ দিকেও তা প্রদান করা যায়। এই অর্থ কেবল অভাবী মুসলিমদের প্রাপ্য এবং তা সরাসরি গ্রহীতাকে মালিক বানিয়ে দিতে হয়। ফলে মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ বা জনকল্যাণমূলক কাজে এই অর্থ ব্যয় করলে ফিতরা আদায় হবে না। আত্মীয়দের মধ্যে যারা অভাবী, তাদের ফিতরা দেওয়া সবচেয়ে উত্তম কারণ এতে সদকা ও আত্মীয়তার হক—উভয় সওয়াবই অর্জিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন