ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

‘এপস্টেইন ফাইল’ ও ট্রাম্প: নথির চাপে প্রেসিডেন্ট ও নতুন বিতর্কের আভাস


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬

‘এপস্টেইন ফাইল’ ও ট্রাম্প: নথির চাপে প্রেসিডেন্ট ও নতুন বিতর্কের আভাস

যৌন অপরাধে অভিযুক্ত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের তদন্ত ও গোপন নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন এক রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাস হওয়া ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর আওতায় গত জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠার নথি জনসমক্ষে আনতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এই বিশাল তথ্যের ভাণ্ডারে প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তির নাম থাকলেও বারবার আলোচিত হচ্ছে বর্তমান প্রেসিডেন্টের সম্পৃক্ততার বিষয়টি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে প্রকাশিত কয়েক হাজার নথিতে ট্রাম্পের নাম ৩ হাজার ৩০০ বারেরও বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও নথির একাংশে এপস্টেইন ও ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা উঠে এসেছে, তবে হোয়াইট হাউস থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে প্রকাশিত তথ্যগুলো প্রেসিডেন্টকে সরাসরি কোনো অপরাধে অভিযুক্ত করে না। বরং গত জানুয়ারি মাসে বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে কিছু নথিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘অসত্য ও চাঞ্চল্যকর’ তথ্য থাকতে পারে যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এফবিআইয়ের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল।

সম্প্রতি প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে এক নারীর সাক্ষ্য বিশেষভাবে সাড়া ফেলেছে। ওই নারীর দাবি অনুযায়ী, আশির দশকে যখন তিনি নাবালিকা ছিলেন, তখন এপস্টেইন তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন। সাক্ষ্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এক পর্যায়ে বাধা দিতে গিয়ে তিনি ট্রাম্পকে কামড়ে দিয়েছিলেন। যদিও হোয়াইট হাউস এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘কল্পিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং দাবি করেছে যে ট্রাম্প ইতিমধ্যে এই ফাইল প্রকাশের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।

এপস্টেইন ফাইল পাসের অন্যতম কারিগর রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি বর্তমানে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ম্যাসি অভিযোগ করেছেন যে যুদ্ধের ডামাডোল সৃষ্টি করে এই স্পর্শকাতর ফাইলগুলো আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প তাকে ‘মোরন’ বা নির্বোধ বলে অভিহিত করে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের ডামাডোলে বিষয়টি কিছুটা চাপা পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে এই নথিগুলো ট্রাম্পের ভাবমূর্তি ও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


‘এপস্টেইন ফাইল’ ও ট্রাম্প: নথির চাপে প্রেসিডেন্ট ও নতুন বিতর্কের আভাস

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

যৌন অপরাধে অভিযুক্ত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের তদন্ত ও গোপন নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন এক রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাস হওয়া ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর আওতায় গত জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠার নথি জনসমক্ষে আনতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এই বিশাল তথ্যের ভাণ্ডারে প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তির নাম থাকলেও বারবার আলোচিত হচ্ছে বর্তমান প্রেসিডেন্টের সম্পৃক্ততার বিষয়টি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে প্রকাশিত কয়েক হাজার নথিতে ট্রাম্পের নাম ৩ হাজার ৩০০ বারেরও বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও নথির একাংশে এপস্টেইন ও ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা উঠে এসেছে, তবে হোয়াইট হাউস থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে প্রকাশিত তথ্যগুলো প্রেসিডেন্টকে সরাসরি কোনো অপরাধে অভিযুক্ত করে না। বরং গত জানুয়ারি মাসে বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে কিছু নথিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘অসত্য ও চাঞ্চল্যকর’ তথ্য থাকতে পারে যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এফবিআইয়ের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল।

সম্প্রতি প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে এক নারীর সাক্ষ্য বিশেষভাবে সাড়া ফেলেছে। ওই নারীর দাবি অনুযায়ী, আশির দশকে যখন তিনি নাবালিকা ছিলেন, তখন এপস্টেইন তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন। সাক্ষ্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এক পর্যায়ে বাধা দিতে গিয়ে তিনি ট্রাম্পকে কামড়ে দিয়েছিলেন। যদিও হোয়াইট হাউস এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘কল্পিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং দাবি করেছে যে ট্রাম্প ইতিমধ্যে এই ফাইল প্রকাশের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।

এপস্টেইন ফাইল পাসের অন্যতম কারিগর রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি বর্তমানে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ম্যাসি অভিযোগ করেছেন যে যুদ্ধের ডামাডোল সৃষ্টি করে এই স্পর্শকাতর ফাইলগুলো আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প তাকে ‘মোরন’ বা নির্বোধ বলে অভিহিত করে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের ডামাডোলে বিষয়টি কিছুটা চাপা পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে এই নথিগুলো ট্রাম্পের ভাবমূর্তি ও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ