ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

প্রথম ভাষণেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি; মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালি নিয়েও কঠোর বার্তা


প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬

প্রথম ভাষণেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি; মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালি নিয়েও কঠোর বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মোজতবা খামেনেই। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া এই প্রথম বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা সামরিক চাপ সহ্য করা হবে না। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান বা তার মিত্রদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী নীতি অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরান প্রয়োজন হলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।

এই বক্তব্যে তিনি সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিষয়েও সতর্কবার্তা দেন। তার ভাষায়, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইরানের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। তিনি বলেন, যদি ওই ঘাঁটিগুলো থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা উসকানি দেওয়া হয়, তাহলে সেগুলো ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তার এই বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

ভাষণে তিনি আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত বেড়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ এবং রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার চেষ্টা চালানো হলেও ইরান তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি এবং ভবিষ্যতেও সরে আসবে না। তিনি দাবি করেন, ইরান আত্মনির্ভরশীল শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করছে এবং যে কোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।

ইরানের নতুন নেতা বক্তৃতায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ Strait of Hormuz নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, এই প্রণালিকে ইরান একটি কৌশলগত শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনে এটিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

ভাষণে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র শক্তিগুলোর কথাও উল্লেখ করেন। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ, হুতি আন্দোলন এবং ইরাকের বিভিন্ন শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তার ভাষায়, এই ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ বা আঞ্চলিক জোট শক্তিশালী থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতার এই প্রথম ভাষণ মূলত শক্ত অবস্থানের বার্তা বহন করছে। দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও ইউএস-এর মধ্যে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে Israel-এর সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা। ফলে নতুন নেতৃত্বের অধীনে তেহরানের নীতি আরও কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে অবস্থান স্পষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে অঞ্চলজুড়ে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


প্রথম ভাষণেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি; মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালি নিয়েও কঠোর বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মোজতবা খামেনেই। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া এই প্রথম বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা সামরিক চাপ সহ্য করা হবে না। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান বা তার মিত্রদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী নীতি অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরান প্রয়োজন হলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।

এই বক্তব্যে তিনি সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিষয়েও সতর্কবার্তা দেন। তার ভাষায়, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইরানের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। তিনি বলেন, যদি ওই ঘাঁটিগুলো থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা উসকানি দেওয়া হয়, তাহলে সেগুলো ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তার এই বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

ভাষণে তিনি আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত বেড়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ এবং রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার চেষ্টা চালানো হলেও ইরান তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি এবং ভবিষ্যতেও সরে আসবে না। তিনি দাবি করেন, ইরান আত্মনির্ভরশীল শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করছে এবং যে কোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।

ইরানের নতুন নেতা বক্তৃতায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ Strait of Hormuz নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, এই প্রণালিকে ইরান একটি কৌশলগত শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনে এটিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

ভাষণে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র শক্তিগুলোর কথাও উল্লেখ করেন। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ, হুতি আন্দোলন এবং ইরাকের বিভিন্ন শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তার ভাষায়, এই ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ বা আঞ্চলিক জোট শক্তিশালী থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতার এই প্রথম ভাষণ মূলত শক্ত অবস্থানের বার্তা বহন করছে। দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও ইউএস-এর মধ্যে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে Israel-এর সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা। ফলে নতুন নেতৃত্বের অধীনে তেহরানের নীতি আরও কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে অবস্থান স্পষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে অঞ্চলজুড়ে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ