ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাল। বড় উৎপাদক দেশগুলো সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে তীব্র অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ১৪ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৪৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও সমপরিমাণ বেড়ে ১০৩ দশমিক ৫৬ ডলারে ঠেকেছে। লেনদেনের এক পর্যায়ে উভয় ধরনের তেলের দামই ১১৯ ডলারের ঘর স্পর্শ করে যা একদিনের ব্যবধানে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধির রেকর্ড।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে বর্তমান সরবরাহ ও ছয় মাস পরের সরবরাহ চুক্তির মূল্যের ব্যবধান রেকর্ড ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদরা একে ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’ হিসেবে অভিহিত করছেন যা বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য যে এর আগে ২০০৮ সালে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১৪৭ ডলারে উঠেছিল।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত বন্ধ থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এর পাশাপাশি তেহরানের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত লজিস্টিক ব্যবস্থার কারণে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন যে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও ভোক্তাদের আরও কয়েক মাস চড়া দামের বোঝা বইতে হবে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চাপের মুখে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সঙ্কট মোকাবিলায় সৌদি আরামকোসহ ওপেকভুক্ত দেশগুলোর উৎপাদন হ্রাস এবং ইরাক ও কুয়েতের তেলক্ষেত্রগুলোতে অচলাবস্থা নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কাতার তাদের এলএনজি উৎপাদন বন্ধ রেখেছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জি-৭ রাষ্ট্রগুলো কৌশলগত মজুদ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা শুরু করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা বজায় থাকলে এই মজুদ দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাল। বড় উৎপাদক দেশগুলো সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে তীব্র অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ১৪ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৪৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও সমপরিমাণ বেড়ে ১০৩ দশমিক ৫৬ ডলারে ঠেকেছে। লেনদেনের এক পর্যায়ে উভয় ধরনের তেলের দামই ১১৯ ডলারের ঘর স্পর্শ করে যা একদিনের ব্যবধানে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধির রেকর্ড।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে বর্তমান সরবরাহ ও ছয় মাস পরের সরবরাহ চুক্তির মূল্যের ব্যবধান রেকর্ড ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদরা একে ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’ হিসেবে অভিহিত করছেন যা বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য যে এর আগে ২০০৮ সালে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১৪৭ ডলারে উঠেছিল।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত বন্ধ থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এর পাশাপাশি তেহরানের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত লজিস্টিক ব্যবস্থার কারণে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন যে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও ভোক্তাদের আরও কয়েক মাস চড়া দামের বোঝা বইতে হবে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চাপের মুখে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সঙ্কট মোকাবিলায় সৌদি আরামকোসহ ওপেকভুক্ত দেশগুলোর উৎপাদন হ্রাস এবং ইরাক ও কুয়েতের তেলক্ষেত্রগুলোতে অচলাবস্থা নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কাতার তাদের এলএনজি উৎপাদন বন্ধ রেখেছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জি-৭ রাষ্ট্রগুলো কৌশলগত মজুদ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা শুরু করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা বজায় থাকলে এই মজুদ দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না।

আপনার মতামত লিখুন