বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রধান তেল শোধনাগার ‘বাপকো’ (Bapco Energies)-তে বড় ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে সিত্রা এলাকায় অবস্থিত এই শোধনাগার লক্ষ্য করে চালানো এই হামলার পর সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। হামলার ভয়াবহতায় কোম্পানিটি তাদের কার্যক্রমের ওপর ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ (Force Majeure) বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে চুক্তি পালনে অক্ষমতা ঘোষণা করেছে।
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার ভোরে ইরানের ড্রোনগুলো সিত্রার আবাসিক এলাকা ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত হানে। বাহরাইন নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে:
স্থাপনা: শোধনাগারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে আগুন ধরে যায়, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
হতাহতের খবর: প্রাথমিক প্রতিবেদনে সিত্রা এলাকায় ৩২ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে শোধনাগারের ভেতরে কোনো প্রাণহানির খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
জ্বালানি সরবরাহ: বিপিএল (Bapco) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং স্থানীয় চাহিদা মেটাতে বিকল্প পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে।
আঞ্চলিক জ্বালানি খাতে প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের দশম দিনে এই হামলাটি বাহরাইনের অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুধু বাহরাইন নয়, প্রতিবেশী কুয়েতও তাদের জ্বালানি রপ্তানিতে একই ধরনের ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা করেছে। এছাড়া আজ সোমবার সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যদিও সেগুলো প্রতিহত করার দাবি করেছে রিয়াদ।
তেল বাজারে অস্থিরতা
উপসাগরীয় অঞ্চলের একের পর এক তেল স্থাপনায় হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও হামলার ঝুঁকি তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলকে প্রায় স্থবির করে দিয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬
বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রধান তেল শোধনাগার ‘বাপকো’ (Bapco Energies)-তে বড় ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে সিত্রা এলাকায় অবস্থিত এই শোধনাগার লক্ষ্য করে চালানো এই হামলার পর সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। হামলার ভয়াবহতায় কোম্পানিটি তাদের কার্যক্রমের ওপর ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ (Force Majeure) বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে চুক্তি পালনে অক্ষমতা ঘোষণা করেছে।
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার ভোরে ইরানের ড্রোনগুলো সিত্রার আবাসিক এলাকা ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত হানে। বাহরাইন নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে:
স্থাপনা: শোধনাগারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে আগুন ধরে যায়, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
হতাহতের খবর: প্রাথমিক প্রতিবেদনে সিত্রা এলাকায় ৩২ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে শোধনাগারের ভেতরে কোনো প্রাণহানির খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
জ্বালানি সরবরাহ: বিপিএল (Bapco) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং স্থানীয় চাহিদা মেটাতে বিকল্প পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে।
আঞ্চলিক জ্বালানি খাতে প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের দশম দিনে এই হামলাটি বাহরাইনের অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুধু বাহরাইন নয়, প্রতিবেশী কুয়েতও তাদের জ্বালানি রপ্তানিতে একই ধরনের ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা করেছে। এছাড়া আজ সোমবার সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যদিও সেগুলো প্রতিহত করার দাবি করেছে রিয়াদ।
তেল বাজারে অস্থিরতা
উপসাগরীয় অঞ্চলের একের পর এক তেল স্থাপনায় হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও হামলার ঝুঁকি তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলকে প্রায় স্থবির করে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন