ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজ ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১৮.৩৫ ডলার বা ১৯.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১১.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১৫.২৭ ডলার বেড়ে ১০৬.১৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা লেনদেনের শুরুতে সর্বোচ্চ ১১১.২৪ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। গত এক সপ্তাহেই ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই-এর দাম যথাক্রমে ২৭ শতাংশ এবং ৩৫.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কারণ ও প্রভাব

সরবরাহ সংকট: হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

উৎপাদন হ্রাস: এএনজেড-এর পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইন্স জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদকরা গুদামে তেল জমে যাওয়ার কারণে উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন। যদি পরিস্থিতি আরও অবনতি হয় এবং তেলের কূপগুলো বন্ধ করতে হয়, তবে যুদ্ধ থামার পরও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

সৌদি আরবের সীমাবদ্ধতা: শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগর দিয়ে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা হরমুজ প্রণালীর ঘাটতি পূরণে পর্যাপ্ত নয় বলে শিপিং তথ্য থেকে জানা গেছে।

ভোক্তা পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের শঙ্কা

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসজুড়ে চড়া মূল্যে জ্বালানি কিনতে হতে পারে। পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজ ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১৮.৩৫ ডলার বা ১৯.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১১.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১৫.২৭ ডলার বেড়ে ১০৬.১৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা লেনদেনের শুরুতে সর্বোচ্চ ১১১.২৪ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। গত এক সপ্তাহেই ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই-এর দাম যথাক্রমে ২৭ শতাংশ এবং ৩৫.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কারণ ও প্রভাব

সরবরাহ সংকট: হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

উৎপাদন হ্রাস: এএনজেড-এর পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইন্স জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদকরা গুদামে তেল জমে যাওয়ার কারণে উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন। যদি পরিস্থিতি আরও অবনতি হয় এবং তেলের কূপগুলো বন্ধ করতে হয়, তবে যুদ্ধ থামার পরও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

সৌদি আরবের সীমাবদ্ধতা: শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগর দিয়ে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা হরমুজ প্রণালীর ঘাটতি পূরণে পর্যাপ্ত নয় বলে শিপিং তথ্য থেকে জানা গেছে।

ভোক্তা পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের শঙ্কা

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসজুড়ে চড়া মূল্যে জ্বালানি কিনতে হতে পারে। পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ