ইরান সরকার ঘোষণা করেছে যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজকে এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হবে না। শনিবার ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ পরিবহনের ক্ষেত্রে এই প্রণালিটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। ইরানের এই সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে তারা পুরো নৌপথ অবরোধ করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর লক্ষ্যভেদী সীমাবদ্ধতা আরোপের নীতি গ্রহণ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে এই জলপথ দিয়ে সাধারণ জাহাজ চলাচল আগে থেকেই উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক নমনীয়তা প্রদর্শন করেছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা করেছেন যে ভবিষ্যতে কোনো দেশ থেকে সরাসরি আক্রমণ না এলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে আর লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। শুক্রবার ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ এই প্রস্তাবটি অনুমোদন করার পর শনিবার প্রেসিডেন্ট এই নতুন অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এক বিশেষ বক্তব্যে যুদ্ধ শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য যে কয়েকদিন আগে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানি হামলার শিকার হয়েছিল। তেহরানের দাবি ছিল ওইসব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতেই তারা হামলা চালিয়েছিল।
ইরানের এই যুদ্ধকৌশল পরিবর্তনের ফলে ইরাক, জর্ডান, আজারবাইজান ও তুরস্কের মতো নিকটবর্তী দেশগুলোতে উত্তেজনার পারদ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখলেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরানের এই নতুন প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬
ইরান সরকার ঘোষণা করেছে যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজকে এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হবে না। শনিবার ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ পরিবহনের ক্ষেত্রে এই প্রণালিটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। ইরানের এই সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে তারা পুরো নৌপথ অবরোধ করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর লক্ষ্যভেদী সীমাবদ্ধতা আরোপের নীতি গ্রহণ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে এই জলপথ দিয়ে সাধারণ জাহাজ চলাচল আগে থেকেই উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক নমনীয়তা প্রদর্শন করেছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা করেছেন যে ভবিষ্যতে কোনো দেশ থেকে সরাসরি আক্রমণ না এলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে আর লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। শুক্রবার ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ এই প্রস্তাবটি অনুমোদন করার পর শনিবার প্রেসিডেন্ট এই নতুন অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এক বিশেষ বক্তব্যে যুদ্ধ শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য যে কয়েকদিন আগে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানি হামলার শিকার হয়েছিল। তেহরানের দাবি ছিল ওইসব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতেই তারা হামলা চালিয়েছিল।
ইরানের এই যুদ্ধকৌশল পরিবর্তনের ফলে ইরাক, জর্ডান, আজারবাইজান ও তুরস্কের মতো নিকটবর্তী দেশগুলোতে উত্তেজনার পারদ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখলেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরানের এই নতুন প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

আপনার মতামত লিখুন