ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বর্ষা শুরুর আগেই ফরিদপুরে আলফাডাঙ্গায় মধুমতীর ভাঙন নদীগর্ভে বসতভিটা



বর্ষা শুরুর আগেই ফরিদপুরে আলফাডাঙ্গায় মধুমতীর ভাঙন নদীগর্ভে বসতভিটা
ছবি : সংগৃহীত

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে মধুমতী নদী। আকস্মিক নদীভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। এতে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।

শুক্রবার (৬ মার্চ) দিনগত রাতে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে দুটি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে মো. মনা মিয়া শেখ ও মো. সোহাগ শেখের পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

ভুক্তভোগী মনা মিয়ার স্ত্রী নিহার বেগম জানান, এর আগেও কয়েকবার তাদের বসতভিটা নদীতে ভেঙে গেছে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তিনি ওই ভিটাতেই একা বসবাস করতেন। হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়ে চোখের সামনে সবকিছু নদীতে চলে যায় বলে আক্ষেপ করেন তিনি। বর্তমানে তাদের থাকার মতো কোনো জায়গা নেই।

অপর ভুক্তভোগী সোহাগ শেখ বলেন, “আমার একমাত্র আশ্রয় ছিল এই ভিটা। সেটাও মধুমতী নদী কেড়ে নিয়েছে। আমি এখন একেবারে নিঃস্ব। সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা পেলে কিছুটা উপকার হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৪ নম্বর টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে হঠাৎ করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। এতে কয়েকটি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং নদীপাড়ের আরও কয়েকটি বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে পরিদর্শনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কৃষ্ণপুর গ্রামের আরও অনেক বাড়িঘর ও জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


বর্ষা শুরুর আগেই ফরিদপুরে আলফাডাঙ্গায় মধুমতীর ভাঙন নদীগর্ভে বসতভিটা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে মধুমতী নদী। আকস্মিক নদীভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। এতে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।

শুক্রবার (৬ মার্চ) দিনগত রাতে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে দুটি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে মো. মনা মিয়া শেখ ও মো. সোহাগ শেখের পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

ভুক্তভোগী মনা মিয়ার স্ত্রী নিহার বেগম জানান, এর আগেও কয়েকবার তাদের বসতভিটা নদীতে ভেঙে গেছে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তিনি ওই ভিটাতেই একা বসবাস করতেন। হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়ে চোখের সামনে সবকিছু নদীতে চলে যায় বলে আক্ষেপ করেন তিনি। বর্তমানে তাদের থাকার মতো কোনো জায়গা নেই।

অপর ভুক্তভোগী সোহাগ শেখ বলেন, “আমার একমাত্র আশ্রয় ছিল এই ভিটা। সেটাও মধুমতী নদী কেড়ে নিয়েছে। আমি এখন একেবারে নিঃস্ব। সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা পেলে কিছুটা উপকার হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৪ নম্বর টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে হঠাৎ করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। এতে কয়েকটি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং নদীপাড়ের আরও কয়েকটি বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে পরিদর্শনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কৃষ্ণপুর গ্রামের আরও অনেক বাড়িঘর ও জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ