ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পিবিআইয়ের তদন্তে অপহরণ মামলার আড়ালে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২



পিবিআইয়ের তদন্তে অপহরণ মামলার আড়ালে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২

নড়াইল প্রতিনিধি: খুলনার ডুমুরিয়া থানার সাজিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা সালেহা বেগম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা সিআর অপহরণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, সালেহা বেগম সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। দেশে ফিরে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় কাজের কথা বলে ছেলেদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে একই গ্রামের ভেক্যু মালিক লালন গাজীর সঙ্গে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানীতে স্বামী–স্ত্রী পরিচয়ে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। মাঝেমধ্যে তিনি নিজ বাড়িতেও যেতেন।

২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় লালন গাজী সালেহা বেগমের ছেলেদের জানায়, তাদের মা আবার বিদেশে চলে গেছেন। এতে সন্দেহ হলে ভিকটিমের বড় ছেলে শামিম ফকির বাদী হয়ে লালন গাজীর বিরুদ্ধে আদালতে একটি সিআর অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআই খুলনার এসআই (নিঃ) রেজোয়ানের ওপর।

তদন্তের এক পর্যায়ে খুলনা অঞ্চলে নিখোঁজ ব্যক্তি ও অজ্ঞাত লাশ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ শুরু করে পিবিআই। এতে জানা যায়, বটিয়াঘাটা থানায় একটি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের রয়েছে। পরবর্তীতে ছবি দেখিয়ে প্রাথমিকভাবে লাশটির পরিচয় সালেহা বেগম হিসেবে নিশ্চিত হয়।

এরপর পিবিআই বটিয়াঘাটা থানার হত্যা মামলাটি অধিগ্রহণ করে এবং প্রধান আসামি লালন গাজীকে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের হালুয়ারঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ১ মার্চ ঢাকার হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজার এলাকা থেকে লালনের মামাতো ভাই সিজার মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, সালেহা বেগমের সঙ্গে লালন গাজীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে স্বামী–স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতেন। এ সময় লালন ভিকটিমের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা নেয়। পরে টাকা ফেরত ও বিয়ের জন্য চাপ দিলে লালন গাজী তার মামাতো ভাই সিজার মোল্লার সঙ্গে মিলে সালেহা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট তারা সালেহা বেগমকে খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করে এবং পরিচয় গোপন করতে মাথা বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়।

এ ঘটনায় মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


পিবিআইয়ের তদন্তে অপহরণ মামলার আড়ালে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

নড়াইল প্রতিনিধি: খুলনার ডুমুরিয়া থানার সাজিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা সালেহা বেগম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা সিআর অপহরণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, সালেহা বেগম সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। দেশে ফিরে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় কাজের কথা বলে ছেলেদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে একই গ্রামের ভেক্যু মালিক লালন গাজীর সঙ্গে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানীতে স্বামী–স্ত্রী পরিচয়ে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। মাঝেমধ্যে তিনি নিজ বাড়িতেও যেতেন।

২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় লালন গাজী সালেহা বেগমের ছেলেদের জানায়, তাদের মা আবার বিদেশে চলে গেছেন। এতে সন্দেহ হলে ভিকটিমের বড় ছেলে শামিম ফকির বাদী হয়ে লালন গাজীর বিরুদ্ধে আদালতে একটি সিআর অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআই খুলনার এসআই (নিঃ) রেজোয়ানের ওপর।

তদন্তের এক পর্যায়ে খুলনা অঞ্চলে নিখোঁজ ব্যক্তি ও অজ্ঞাত লাশ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ শুরু করে পিবিআই। এতে জানা যায়, বটিয়াঘাটা থানায় একটি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের রয়েছে। পরবর্তীতে ছবি দেখিয়ে প্রাথমিকভাবে লাশটির পরিচয় সালেহা বেগম হিসেবে নিশ্চিত হয়।

এরপর পিবিআই বটিয়াঘাটা থানার হত্যা মামলাটি অধিগ্রহণ করে এবং প্রধান আসামি লালন গাজীকে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের হালুয়ারঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ১ মার্চ ঢাকার হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজার এলাকা থেকে লালনের মামাতো ভাই সিজার মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, সালেহা বেগমের সঙ্গে লালন গাজীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে স্বামী–স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতেন। এ সময় লালন ভিকটিমের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা নেয়। পরে টাকা ফেরত ও বিয়ের জন্য চাপ দিলে লালন গাজী তার মামাতো ভাই সিজার মোল্লার সঙ্গে মিলে সালেহা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট তারা সালেহা বেগমকে খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করে এবং পরিচয় গোপন করতে মাথা বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়।

এ ঘটনায় মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ