বাংলাদেশে পোস্ত দানা বা পপি সিড আমদানি আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। দেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী এই বীজকে ‘ক্যাটাগরি–এ’ শ্রেণির নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কারণ পোস্ত দানা অপিয়াম পপি গাছের বীজ, যা থেকে পপি গাছ উৎপাদন সম্ভব এবং সেই গাছ থেকেই আফিম, মরফিন, কোডিন ও হেরোইনের মতো শক্তিশালী মাদক তৈরি করা যায়। যদিও বীজ থেকে সরাসরি আফিম উৎপাদন করা হয় না, তবুও এই বীজের মাধ্যমে মাদক উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকায় বাংলাদেশে এর আমদানি ও বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে বিপুল পরিমাণ পোস্ত দানা আটক হওয়ার ঘটনায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস পাকিস্তান থেকে আমদানি করা দুটি কনটেইনারে প্রায় ২৫ টন নিষিদ্ধ পপি বীজ জব্দ করে। কাগজপত্রে এগুলোকে ‘পাখির খাদ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ শাখা চালানটি পরীক্ষা করে দেখতে পায়, ঘোষিত পণ্যের আড়ালে বিপুল পরিমাণ পোস্ত দানা লুকিয়ে আনা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পণ্যের পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কেজি এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তীতে জব্দ করা পণ্যের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও পরীক্ষাগারে পাঠানো হয় এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে এগুলো পপি বীজ। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, চালানটি পাকিস্তান থেকে দুইটি কনটেইনারে করে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে এবং তা খালাসের আগে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তদন্ত শুরু করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে নিষিদ্ধ এই পণ্য কীভাবে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত চোরাচালান চক্র রয়েছে কি না। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের মতে, সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চলগুলোকে অনেক সময় মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের কিছু সীমান্ত পথ নজরদারির জন্য জটিল হওয়ায় মাদক পাচারকারীরা এসব এলাকাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পোস্ত দানা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের অবৈধ আমদানি প্রতিরোধে বন্দর ও সীমান্ত এলাকায় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে কাস্টমস, পুলিশ, বিজিবি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা জরুরি। চট্টগ্রাম বন্দরে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পপি বীজ আটক হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে মাদক চোরাচালানকারীরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। তাই এ ধরনের চক্র শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশে পোস্ত দানা বা পপি সিড আমদানি আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। দেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী এই বীজকে ‘ক্যাটাগরি–এ’ শ্রেণির নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কারণ পোস্ত দানা অপিয়াম পপি গাছের বীজ, যা থেকে পপি গাছ উৎপাদন সম্ভব এবং সেই গাছ থেকেই আফিম, মরফিন, কোডিন ও হেরোইনের মতো শক্তিশালী মাদক তৈরি করা যায়। যদিও বীজ থেকে সরাসরি আফিম উৎপাদন করা হয় না, তবুও এই বীজের মাধ্যমে মাদক উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকায় বাংলাদেশে এর আমদানি ও বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে বিপুল পরিমাণ পোস্ত দানা আটক হওয়ার ঘটনায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস পাকিস্তান থেকে আমদানি করা দুটি কনটেইনারে প্রায় ২৫ টন নিষিদ্ধ পপি বীজ জব্দ করে। কাগজপত্রে এগুলোকে ‘পাখির খাদ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ শাখা চালানটি পরীক্ষা করে দেখতে পায়, ঘোষিত পণ্যের আড়ালে বিপুল পরিমাণ পোস্ত দানা লুকিয়ে আনা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পণ্যের পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কেজি এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তীতে জব্দ করা পণ্যের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও পরীক্ষাগারে পাঠানো হয় এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে এগুলো পপি বীজ। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, চালানটি পাকিস্তান থেকে দুইটি কনটেইনারে করে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে এবং তা খালাসের আগে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তদন্ত শুরু করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে নিষিদ্ধ এই পণ্য কীভাবে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত চোরাচালান চক্র রয়েছে কি না। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের মতে, সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চলগুলোকে অনেক সময় মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের কিছু সীমান্ত পথ নজরদারির জন্য জটিল হওয়ায় মাদক পাচারকারীরা এসব এলাকাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পোস্ত দানা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের অবৈধ আমদানি প্রতিরোধে বন্দর ও সীমান্ত এলাকায় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে কাস্টমস, পুলিশ, বিজিবি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা জরুরি। চট্টগ্রাম বন্দরে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পপি বীজ আটক হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে মাদক চোরাচালানকারীরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। তাই এ ধরনের চক্র শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন