রক্তক্ষয়ী গণবিক্ষোভ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর অবশেষে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন নেপালের জনগণ। হিমালয় কন্যা এই দেশটির প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ ভোটার আজ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন, যার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলন দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয় এবং এতে অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যু ঘটে। তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে তখনকার প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সেই অস্থির পরিস্থিতির পরই বর্তমান নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত নেপাল বহু বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং বেকারত্বের সমস্যায় ভুগছে। তাই এবারের নির্বাচনে পরিবর্তনের প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
এই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে পুরনো রাজনৈতিক শক্তি এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের মধ্যে। একদিকে রয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক কেপি শর্মা অলি ও গগন থাপার মতো নেতারা। অন্যদিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন জনপ্রিয় র্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ। মাত্র তিন বছর আগে গঠিত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তার অংশগ্রহণ নেপালের প্রচলিত রাজনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র হিসেবে তিনি বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু একটি সাধারণ ভোট নয়; বরং গত বছরের ‘জেন জি’ আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম যে পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল, তারই প্রতিফলন ঘটতে পারে এই নির্বাচনে।
সকাল সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে এই নির্বাচনকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নির্বাচনে মোট ২৭৫ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন, যার মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি ভোটে এবং বাকি ১১০ জন সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্বাচিত হবেন। প্রাথমিক ফলাফল আগামীকাল থেকেই পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬
রক্তক্ষয়ী গণবিক্ষোভ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর অবশেষে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন নেপালের জনগণ। হিমালয় কন্যা এই দেশটির প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ ভোটার আজ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন, যার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলন দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয় এবং এতে অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যু ঘটে। তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে তখনকার প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সেই অস্থির পরিস্থিতির পরই বর্তমান নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত নেপাল বহু বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং বেকারত্বের সমস্যায় ভুগছে। তাই এবারের নির্বাচনে পরিবর্তনের প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
এই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে পুরনো রাজনৈতিক শক্তি এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের মধ্যে। একদিকে রয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক কেপি শর্মা অলি ও গগন থাপার মতো নেতারা। অন্যদিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন জনপ্রিয় র্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ। মাত্র তিন বছর আগে গঠিত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তার অংশগ্রহণ নেপালের প্রচলিত রাজনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র হিসেবে তিনি বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু একটি সাধারণ ভোট নয়; বরং গত বছরের ‘জেন জি’ আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম যে পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল, তারই প্রতিফলন ঘটতে পারে এই নির্বাচনে।
সকাল সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে এই নির্বাচনকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নির্বাচনে মোট ২৭৫ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন, যার মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি ভোটে এবং বাকি ১১০ জন সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্বাচিত হবেন। প্রাথমিক ফলাফল আগামীকাল থেকেই পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন