ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশটি তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হচ্ছে চীন, যা দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ কিনে থাকে।
চীন অনেক সময় সরাসরি নয়, ঘুরপথে এই তেল আমদানি করে। কিছু ক্ষেত্রে ইরানের তেলকে মালয়েশিয়ার তেল হিসেবে দেখিয়ে জাহাজে করে চীনে নেওয়া হয়। আবার ডলারের বদলে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে লেনদেন করা হয়, যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নজর এড়ানো যায়। এই আর্থিক লেনদেনে চীনের স্বল্পপরিচিত ব্যাংক ব্যাংক অব কুনলুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৪ সালে তেল রপ্তানি থেকে ইরানের আয় হয়েছে প্রায় ৩৫ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৩২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের তেল গেছে শুধু চীনে। ফলে চীন কার্যত ইরানের প্রধান জ্বালানি অংশীদার হয়ে উঠেছে।
চীনের বাইরে ইরানি তেলের ক্রেতা খুবই কম। সিরিয়া একমাত্র দেশ, যারা এক বিলিয়ন ডলারের বেশি তেল কিনেছে, যা ইরানের মোট রপ্তানির প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ২ শতাংশ এবং ভেনেজুয়েলা প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ তেল কিনে থাকে।
একসময় জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ ইরানের তেল আমদানি করত। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন সেই বাজার অনেক ছোট হয়ে গেছে। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান বর্তমানে “শ্যাডো ফ্লিট” বা পুনর্নিবন্ধিত ট্যাংকার ব্যবহার করে এবং অনেক সময় সমুদ্রে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তর করে উৎস গোপন রাখে।
ক্রেতা ধরে রাখতে ইরান আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে তেল বিক্রি করছে। ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় সাধারণত ব্যারেলপ্রতি ৩ থেকে ৯ ডলার কম দামে ইরানি তেল বিক্রি হয়। এই ছাড়ের কারণে ইরানকে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশটি তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হচ্ছে চীন, যা দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ কিনে থাকে।
চীন অনেক সময় সরাসরি নয়, ঘুরপথে এই তেল আমদানি করে। কিছু ক্ষেত্রে ইরানের তেলকে মালয়েশিয়ার তেল হিসেবে দেখিয়ে জাহাজে করে চীনে নেওয়া হয়। আবার ডলারের বদলে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে লেনদেন করা হয়, যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নজর এড়ানো যায়। এই আর্থিক লেনদেনে চীনের স্বল্পপরিচিত ব্যাংক ব্যাংক অব কুনলুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৪ সালে তেল রপ্তানি থেকে ইরানের আয় হয়েছে প্রায় ৩৫ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৩২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের তেল গেছে শুধু চীনে। ফলে চীন কার্যত ইরানের প্রধান জ্বালানি অংশীদার হয়ে উঠেছে।
চীনের বাইরে ইরানি তেলের ক্রেতা খুবই কম। সিরিয়া একমাত্র দেশ, যারা এক বিলিয়ন ডলারের বেশি তেল কিনেছে, যা ইরানের মোট রপ্তানির প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ২ শতাংশ এবং ভেনেজুয়েলা প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ তেল কিনে থাকে।
একসময় জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ ইরানের তেল আমদানি করত। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন সেই বাজার অনেক ছোট হয়ে গেছে। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান বর্তমানে “শ্যাডো ফ্লিট” বা পুনর্নিবন্ধিত ট্যাংকার ব্যবহার করে এবং অনেক সময় সমুদ্রে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তর করে উৎস গোপন রাখে।
ক্রেতা ধরে রাখতে ইরান আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে তেল বিক্রি করছে। ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় সাধারণত ব্যারেলপ্রতি ৩ থেকে ৯ ডলার কম দামে ইরানি তেল বিক্রি হয়। এই ছাড়ের কারণে ইরানকে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন