ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরানে অস্থিরতা উসকে দিতে কুর্দিদের অস্ত্র দিচ্ছে সিআইএ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬

ইরানে অস্থিরতা উসকে দিতে কুর্দিদের অস্ত্র দিচ্ছে সিআইএ
চিত্র : সংগৃহীত

ইরানে গণঅভ্যুত্থান উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে কুর্দি বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেওয়ার কাজ করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ—এমন দাবি করেছে একাধিক সূত্র। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এসব সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানবিরোধী গোষ্ঠী ও ইরাকের কুর্দি নেতাদের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে, যাতে তাদের সামরিক সহায়তা দেওয়া যায়।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কয়েক হাজার যোদ্ধা ইরাক-ইরান সীমান্তে, বিশেষ করে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কয়েকটি গোষ্ঠী প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে আসন্ন পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং ইরানের সামরিক বাহিনীকে দলত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এসব কুর্দি গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। গত মঙ্গলবার তারা জানায়, ডজনখানেক ড্রোন দিয়ে কুর্দি বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি কুর্দিস্তানের ডেমোক্রেটিক পার্টির (কেডিপিআই) প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা হিজরির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কুর্দি কর্মকর্তা দাবি করেছেন। আইআরজিসির লক্ষ্যবস্তু হওয়া গোষ্ঠীগুলোর একটি কেডিপিআই। সিএনএনকে ওই কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিম ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানে ইরানি কুর্দি বিরোধী বাহিনী অংশ নিতে পারে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এখন আমাদের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, মিলিশিয়ারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থন প্রত্যাশা করছে।

এর আগে গত রোববার ট্রাম্প ইরাকি কুর্দি নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান অগ্রসর হলে যুক্তরাষ্ট্র ও কুর্দিরা কীভাবে সমন্বয়ে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনায় অবগত তৃতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে। প্রথমে এ তথ্য প্রকাশ করে অ্যাক্সিওস। ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিতে হলে ইরাকি কুর্দিদের সমর্থন প্রয়োজন হবে, কারণ অস্ত্র পরিবহন এবং ইরাকি কুর্দিস্তানকে উৎক্ষেপণ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি তাদেরই দিতে হবে।

আলোচনায় থাকা একটি সূত্র জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী কুর্দি সশস্ত্র বাহিনী ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে তাদের ব্যস্ত রাখবে। এতে বড় শহরগুলোতে নিরস্ত্র ইরানিরা যেন জানুয়ারির অস্থিরতার সময়ের মতো আবারও রাস্তায় নামতে পারে। আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, কুর্দিরা এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে এবং ইরানি শাসনের সামরিক সম্পদ ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করতে পারে। অন্য কিছু ধারণায় বলা হচ্ছে, ইরানের উত্তরে কুর্দিরা ভূখণ্ড দখল ও ধরে রাখতে পারলে ইসরায়েলের জন্য একটি বাফার জোন তৈরি হতে পারে।

এই প্রতিবেদন নিয়ে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সিএনএনের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা অ্যালেক্স প্লিটসাস বলেন, কুর্দিদের অস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই ইরানে শাসন উৎখাতের প্রক্রিয়াকে ‘শুরু করে দিতে’ চাইছে। তিনি উল্লেখ করেন, কুর্দিরা ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র।

প্লিটসাস বলেন, ‘ইরানের সাধারণ মানুষ মোটের ওপর নিরস্ত্র। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ভেঙে না পড়লে তাদের পক্ষে ক্ষমতা দখল করা কঠিন, যদি না কেউ তাদের অস্ত্র দেয়। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, এটি ইরানের মাটিতে অন্যদেরও একই পথে হাঁটতে উদ্বুদ্ধ করবে।’

সাবেক মার্কিন প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কর্মকর্তা জেন গাভিতো সতর্ক করে বলেন, ‘কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব পুরোপুরি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, সীমান্তের দুই পাশেই ইতোমধ্যে অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব দুর্বল করতে পারে ও জবাবদিহিতাহীন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ক্ষমতায়িত করতে পারে।

একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানি সামরিক ও পুলিশ চৌকিগুলোতে হামলা চালিয়েছে, যা আংশিকভাবে উত্তর-পশ্চিম ইরানে কুর্দি সশস্ত্র বাহিনীর সম্ভাব্য প্রবেশের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে হতে পারে। এক ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, আগামী দিনগুলোতে এসব হামলা আরও জোরদার হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ইরানি শাসনকে হটাতে কুর্দি স্থলবাহিনীকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থন আরও বিস্তৃত হতে হবে।

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানি কুর্দিদের কাছে বর্তমানে সফল গণঅভ্যুত্থান জোরদার করার মতো পর্যাপ্ত প্রভাব বা সম্পদ নেই। একটি সূত্র জানায়, কোনো প্রতিরোধ প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে রাজনৈতিক নিশ্চয়তা চাইছে ইরানি কুর্দি দলগুলো।

কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও বিভক্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, মতাদর্শগত পার্থক্য ও ভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা, যারা এই গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের আলোচনায় যুক্ত ছিলেন, তারাও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় আস্থার মাত্রা বিবেচনায় এই সম্পর্ক ঝুঁকিতে পড়তে পারে কি না।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমেরিকানরা কোনো প্রক্সি বাহিনীকে নিজেদের হয়ে লড়তে রাজি করালেই বিষয়টি শেষ হয়ে যাবে—বিষয়টা এত সহজ নাও হতে পারে। এখানে এমন একদল মানুষ রয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ভাবছে। প্রশ্ন হলো, তাদের সম্পৃক্ততা তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।’

কুর্দিরা একটি জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, যাদের কোনো স্বীকৃত রাষ্ট্র নেই। বিশ্বে আনুমানিক আড়াই থেকে তিন কোটি কুর্দি রয়েছে এবং তারা প্রধানত তুরস্ক, ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও আর্মেনিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে বসবাস করে। অধিকাংশ কুর্দি সুন্নি মুসলিম হলেও তাদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য বৈচিত্র্যময়।

অ্যালেক্স প্লিটসাস সতর্ক করে বলেন, ‘অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে কুর্দিদের পরিত্যাগের ন্যারেটিভ আরও জোরালো হবে—এমন উদ্বেগ রয়েছে।’ ট্রাম্পের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস তার প্রথম মেয়াদে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন, যা তিনি সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কুর্দি মিত্রদের পরিত্যাগ হিসেবে দেখেছিলেন।

সিআইএর ইরাকি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কাজ করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরানের সীমান্তের কাছে ইরাকি কুর্দিস্তানে সিআইএর একটি ঘাঁটি রয়েছে এবং এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কনস্যুলেটও আছে। আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে মার্কিন ও জোট বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।

তবে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কুর্দি বাহিনীর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল বলে অনেক কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছেন। অনেক কুর্দির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে তাদের মাঝপথে ছেড়ে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইরানে অস্থিরতা উসকে দিতে কুর্দিদের অস্ত্র দিচ্ছে সিআইএ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানে গণঅভ্যুত্থান উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে কুর্দি বিদ্রোহীদের অস্ত্র দেওয়ার কাজ করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ—এমন দাবি করেছে একাধিক সূত্র। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এসব সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানবিরোধী গোষ্ঠী ও ইরাকের কুর্দি নেতাদের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে, যাতে তাদের সামরিক সহায়তা দেওয়া যায়।


সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কয়েক হাজার যোদ্ধা ইরাক-ইরান সীমান্তে, বিশেষ করে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কয়েকটি গোষ্ঠী প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে আসন্ন পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং ইরানের সামরিক বাহিনীকে দলত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এসব কুর্দি গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। গত মঙ্গলবার তারা জানায়, ডজনখানেক ড্রোন দিয়ে কুর্দি বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।


একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি কুর্দিস্তানের ডেমোক্রেটিক পার্টির (কেডিপিআই) প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা হিজরির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কুর্দি কর্মকর্তা দাবি করেছেন। আইআরজিসির লক্ষ্যবস্তু হওয়া গোষ্ঠীগুলোর একটি কেডিপিআই। সিএনএনকে ওই কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিম ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানে ইরানি কুর্দি বিরোধী বাহিনী অংশ নিতে পারে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এখন আমাদের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, মিলিশিয়ারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থন প্রত্যাশা করছে।


এর আগে গত রোববার ট্রাম্প ইরাকি কুর্দি নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান অগ্রসর হলে যুক্তরাষ্ট্র ও কুর্দিরা কীভাবে সমন্বয়ে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনায় অবগত তৃতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে। প্রথমে এ তথ্য প্রকাশ করে অ্যাক্সিওস। ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিতে হলে ইরাকি কুর্দিদের সমর্থন প্রয়োজন হবে, কারণ অস্ত্র পরিবহন এবং ইরাকি কুর্দিস্তানকে উৎক্ষেপণ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি তাদেরই দিতে হবে।


আলোচনায় থাকা একটি সূত্র জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী কুর্দি সশস্ত্র বাহিনী ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে তাদের ব্যস্ত রাখবে। এতে বড় শহরগুলোতে নিরস্ত্র ইরানিরা যেন জানুয়ারির অস্থিরতার সময়ের মতো আবারও রাস্তায় নামতে পারে। আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, কুর্দিরা এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে এবং ইরানি শাসনের সামরিক সম্পদ ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করতে পারে। অন্য কিছু ধারণায় বলা হচ্ছে, ইরানের উত্তরে কুর্দিরা ভূখণ্ড দখল ও ধরে রাখতে পারলে ইসরায়েলের জন্য একটি বাফার জোন তৈরি হতে পারে।


এই প্রতিবেদন নিয়ে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সিএনএনের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা অ্যালেক্স প্লিটসাস বলেন, কুর্দিদের অস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই ইরানে শাসন উৎখাতের প্রক্রিয়াকে ‘শুরু করে দিতে’ চাইছে। তিনি উল্লেখ করেন, কুর্দিরা ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র।


প্লিটসাস বলেন, ‘ইরানের সাধারণ মানুষ মোটের ওপর নিরস্ত্র। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ভেঙে না পড়লে তাদের পক্ষে ক্ষমতা দখল করা কঠিন, যদি না কেউ তাদের অস্ত্র দেয়। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, এটি ইরানের মাটিতে অন্যদেরও একই পথে হাঁটতে উদ্বুদ্ধ করবে।’


সাবেক মার্কিন প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কর্মকর্তা জেন গাভিতো সতর্ক করে বলেন, ‘কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব পুরোপুরি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, সীমান্তের দুই পাশেই ইতোমধ্যে অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব দুর্বল করতে পারে ও জবাবদিহিতাহীন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ক্ষমতায়িত করতে পারে।


একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানি সামরিক ও পুলিশ চৌকিগুলোতে হামলা চালিয়েছে, যা আংশিকভাবে উত্তর-পশ্চিম ইরানে কুর্দি সশস্ত্র বাহিনীর সম্ভাব্য প্রবেশের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে হতে পারে। এক ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, আগামী দিনগুলোতে এসব হামলা আরও জোরদার হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ইরানি শাসনকে হটাতে কুর্দি স্থলবাহিনীকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থন আরও বিস্তৃত হতে হবে।


মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানি কুর্দিদের কাছে বর্তমানে সফল গণঅভ্যুত্থান জোরদার করার মতো পর্যাপ্ত প্রভাব বা সম্পদ নেই। একটি সূত্র জানায়, কোনো প্রতিরোধ প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে রাজনৈতিক নিশ্চয়তা চাইছে ইরানি কুর্দি দলগুলো।


কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও বিভক্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, মতাদর্শগত পার্থক্য ও ভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা, যারা এই গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের আলোচনায় যুক্ত ছিলেন, তারাও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় আস্থার মাত্রা বিবেচনায় এই সম্পর্ক ঝুঁকিতে পড়তে পারে কি না।


ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমেরিকানরা কোনো প্রক্সি বাহিনীকে নিজেদের হয়ে লড়তে রাজি করালেই বিষয়টি শেষ হয়ে যাবে—বিষয়টা এত সহজ নাও হতে পারে। এখানে এমন একদল মানুষ রয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ভাবছে। প্রশ্ন হলো, তাদের সম্পৃক্ততা তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।’


কুর্দিরা একটি জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, যাদের কোনো স্বীকৃত রাষ্ট্র নেই। বিশ্বে আনুমানিক আড়াই থেকে তিন কোটি কুর্দি রয়েছে এবং তারা প্রধানত তুরস্ক, ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও আর্মেনিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে বসবাস করে। অধিকাংশ কুর্দি সুন্নি মুসলিম হলেও তাদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য বৈচিত্র্যময়।


অ্যালেক্স প্লিটসাস সতর্ক করে বলেন, ‘অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে কুর্দিদের পরিত্যাগের ন্যারেটিভ আরও জোরালো হবে—এমন উদ্বেগ রয়েছে।’ ট্রাম্পের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস তার প্রথম মেয়াদে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন, যা তিনি সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কুর্দি মিত্রদের পরিত্যাগ হিসেবে দেখেছিলেন।


সিআইএর ইরাকি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কাজ করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরানের সীমান্তের কাছে ইরাকি কুর্দিস্তানে সিআইএর একটি ঘাঁটি রয়েছে এবং এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কনস্যুলেটও আছে। আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে মার্কিন ও জোট বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।


তবে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কুর্দি বাহিনীর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল বলে অনেক কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছেন। অনেক কুর্দির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে তাদের মাঝপথে ছেড়ে দিয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ