বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।
সোমবার (২ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরজিসি-র প্রধান কমান্ডারের সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারির এই বক্তব্য প্রকাশ করে। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরান এই প্রণালীটি পুরোপুরি বন্ধ দাবি করলেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালী এখনো নৌ-চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে সোমবারই আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন-সংশ্লিষ্ট তেলের ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। 'আথে নোভা' নামের ওই ট্যাঙ্কারটিতে দুটি ড্রোন আঘাত হানার পর সেটিতে এখনো আগুন জ্বলছে বলে আইআরজিসি জানায়।
হরমুজ প্রণালীতে চলমান এই অচলাবস্থা মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুরু হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছায়। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান কেবল হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং ইসরায়েল এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালিয়েছে। কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ইরানি মিসাইলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। মাত্র ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথটি সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইরানের এই কড়া অবস্থানের ফলে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর এবার হরমুজ প্রণালীতে এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।
সোমবার (২ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরজিসি-র প্রধান কমান্ডারের সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারির এই বক্তব্য প্রকাশ করে। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরান এই প্রণালীটি পুরোপুরি বন্ধ দাবি করলেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালী এখনো নৌ-চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে সোমবারই আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন-সংশ্লিষ্ট তেলের ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। 'আথে নোভা' নামের ওই ট্যাঙ্কারটিতে দুটি ড্রোন আঘাত হানার পর সেটিতে এখনো আগুন জ্বলছে বলে আইআরজিসি জানায়।
হরমুজ প্রণালীতে চলমান এই অচলাবস্থা মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুরু হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছায়। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান কেবল হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং ইসরায়েল এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালিয়েছে। কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ইরানি মিসাইলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। মাত্র ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথটি সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইরানের এই কড়া অবস্থানের ফলে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর এবার হরমুজ প্রণালীতে এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন