ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারাল শিশু ইরার

ইকোপার্কে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই শিশুটি মারা গেছে


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬

ইকোপার্কে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই শিশুটি মারা গেছে
সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে ছুরিকাঘাতে জখম হওয়া শিশু - জান্নাতুল নিশা ইরা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হওয়া সাত বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নিশা ইরা না ফেরার দেশে চলে গেছে। টানা তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। ইরার চাচা মো. রমিজ বিষাদভরা কণ্ঠে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার সকাল ১০টার দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে সহস্রধারা ঝরনার প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরের পাহাড়ি পথে শিশু ইরাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সেই সময় তার গলা থেকে অনবরত রক্ত ঝরছিল। চন্দ্রনাথ মন্দির সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা প্রথম শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের পরনের কাপড় দিয়ে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং দ্রুত সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।


হাসপাতালে ভর্তির পর রোববারই ইরার গলায় জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছিলেন চিকিৎসকরা। এরপর সোমবার তাকে হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) নেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আজ মঙ্গলবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শিশুটি। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা গেছে। ইতোমধ্যেই নিহতের মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বর্তমানে অপরাধীকে শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

বিষয় : শিশু_ইরা ইকোপার্ক চট্টগ্রাম Chittagong ChildSafety

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


ইকোপার্কে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই শিশুটি মারা গেছে

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হওয়া সাত বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নিশা ইরা না ফেরার দেশে চলে গেছে। টানা তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। ইরার চাচা মো. রমিজ বিষাদভরা কণ্ঠে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার সকাল ১০টার দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে সহস্রধারা ঝরনার প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরের পাহাড়ি পথে শিশু ইরাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সেই সময় তার গলা থেকে অনবরত রক্ত ঝরছিল। চন্দ্রনাথ মন্দির সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা প্রথম শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের পরনের কাপড় দিয়ে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং দ্রুত সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।


হাসপাতালে ভর্তির পর রোববারই ইরার গলায় জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছিলেন চিকিৎসকরা। এরপর সোমবার তাকে হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) নেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আজ মঙ্গলবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শিশুটি। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে।


সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা গেছে। ইতোমধ্যেই নিহতের মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বর্তমানে অপরাধীকে শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ