যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে ইরানের আত্মরক্ষার প্রচেষ্টাকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে চীন। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক জরুরি টেলিফোন আলাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ের এই অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করার অধিকার কারও নেই এবং ইরান তার জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, চীন তার পাশে রয়েছে। বেইজিংয়ের এই প্রভাবশালী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে একটি নতুন কৌশলগত মাত্রা যোগ করল।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আব্বাস আরাঘচিকে দেওয়া বার্তায় ওয়াং ই বলেন, চীন ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বকে বেইজিং অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তিনি আরও বলেন, ইরান তার নিরাপত্তা ও বৈধ স্বার্থ রক্ষায় যে সংঘাতের মুখোমুখি হয়েছে, সেখানে বেইজিং তেহরানের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের পক্ষে থাকবে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে অনতিবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়ে চীন সতর্ক করেছে যে, এই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের কবলে পড়বে।
একই দিনে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে পৃথক এক ফোনালাপে ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই দুই রাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ উসকে দিচ্ছে, যা জাতিসংঘের সনদের মূল লক্ষ্য ও নীতির চরম লঙ্ঘন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বেইজিং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে ইচ্ছুক। ওমানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে যৌথ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ নোয়েল বারোটের সঙ্গে অপর এক আলোচনায় ওয়াং ই বর্তমান বিশ্বের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, বিশ্ব বর্তমানে আবারও ‘জঙ্গলের আইন’ বা জোর যার মুল্লুক তার—এমন এক আদিম ও বিপজ্জনক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বড় শক্তিগুলো কেবল তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দোহাই দিয়ে খেয়ালখুশি মতো অন্য দেশের ওপর হামলা চালাতে পারে না। ইরানের পারমাণবিক ইস্যুসহ যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান শেষ পর্যন্ত কেবল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথেই আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে ইরানের আত্মরক্ষার প্রচেষ্টাকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে চীন। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক জরুরি টেলিফোন আলাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ের এই অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করার অধিকার কারও নেই এবং ইরান তার জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, চীন তার পাশে রয়েছে। বেইজিংয়ের এই প্রভাবশালী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে একটি নতুন কৌশলগত মাত্রা যোগ করল।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আব্বাস আরাঘচিকে দেওয়া বার্তায় ওয়াং ই বলেন, চীন ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বকে বেইজিং অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তিনি আরও বলেন, ইরান তার নিরাপত্তা ও বৈধ স্বার্থ রক্ষায় যে সংঘাতের মুখোমুখি হয়েছে, সেখানে বেইজিং তেহরানের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের পক্ষে থাকবে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে অনতিবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়ে চীন সতর্ক করেছে যে, এই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের কবলে পড়বে।
একই দিনে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে পৃথক এক ফোনালাপে ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই দুই রাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ উসকে দিচ্ছে, যা জাতিসংঘের সনদের মূল লক্ষ্য ও নীতির চরম লঙ্ঘন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বেইজিং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে ইচ্ছুক। ওমানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে যৌথ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ নোয়েল বারোটের সঙ্গে অপর এক আলোচনায় ওয়াং ই বর্তমান বিশ্বের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, বিশ্ব বর্তমানে আবারও ‘জঙ্গলের আইন’ বা জোর যার মুল্লুক তার—এমন এক আদিম ও বিপজ্জনক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বড় শক্তিগুলো কেবল তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দোহাই দিয়ে খেয়ালখুশি মতো অন্য দেশের ওপর হামলা চালাতে পারে না। ইরানের পারমাণবিক ইস্যুসহ যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান শেষ পর্যন্ত কেবল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথেই আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন