ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

স্কুল ও হাসপাতালে ধ্বংসযজ্ঞ

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৫


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৫
চিত্র : সংগৃহীত

ইরানের শতাধিক শহরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ যৌথ সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী আক্রমণের ফলে ইরানের জনপদগুলো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে এক অপূরণীয় মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

সোমবার ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ অভিযানে ইরানের ১৩১টি শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত এই সংস্থাটি বর্তমানে দেশব্যাপী তাদের ১ লাখেরও বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে। তারা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাণ হারানো ৫৫৫ জন ইরানি নাগরিকের মধ্যে সাধারণ মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে চালানো হামলার নৃশংসতা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবা প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা বর্ষণে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রসিকিউটর নিশ্চিত করেছেন যে, শনিবার সকালে বিদ্যালয়টি লক্ষ্য করে যখন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, তখন সেখানে পাঠদান চলছিল। এই পৈশাচিক হামলায় নিহতদের প্রায় সবাই শিশু শিক্ষার্থী। এছাড়া আরও ৯৬ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিদ্যালয়টির একটি হৃদয়বিদারক ছবি প্রকাশ করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন যে, নিষ্পাপ শিশুদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং ইরানের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত এই অপরাধের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সাথে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বেঘাই এই হামলাকে ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়; ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ প্রধান হোসেইন কেরমানপুর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, মিনাবের বালিকা বিদ্যালয়ে যে ধরনের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, ঠিক একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তেহরানের গান্ধী হাসপাতালেও হামলা চালানো হয়েছে। একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা কেন্দ্রে এই পরিকল্পিত আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক চরম অমানবিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৫

প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের শতাধিক শহরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ যৌথ সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী আক্রমণের ফলে ইরানের জনপদগুলো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে এক অপূরণীয় মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।


সোমবার ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ অভিযানে ইরানের ১৩১টি শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত এই সংস্থাটি বর্তমানে দেশব্যাপী তাদের ১ লাখেরও বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে। তারা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাণ হারানো ৫৫৫ জন ইরানি নাগরিকের মধ্যে সাধারণ মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।


এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে চালানো হামলার নৃশংসতা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবা প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা বর্ষণে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রসিকিউটর নিশ্চিত করেছেন যে, শনিবার সকালে বিদ্যালয়টি লক্ষ্য করে যখন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, তখন সেখানে পাঠদান চলছিল। এই পৈশাচিক হামলায় নিহতদের প্রায় সবাই শিশু শিক্ষার্থী। এছাড়া আরও ৯৬ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিদ্যালয়টির একটি হৃদয়বিদারক ছবি প্রকাশ করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন যে, নিষ্পাপ শিশুদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং ইরানের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত এই অপরাধের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সাথে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বেঘাই এই হামলাকে ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়; ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ প্রধান হোসেইন কেরমানপুর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, মিনাবের বালিকা বিদ্যালয়ে যে ধরনের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, ঠিক একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তেহরানের গান্ধী হাসপাতালেও হামলা চালানো হয়েছে। একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা কেন্দ্রে এই পরিকল্পিত আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক চরম অমানবিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ