মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান ভয়াবহ সংঘাত যখন বিশ্বজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধির এক অভাবনীয় ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। কয়েক দশকের প্রচলিত নীতি ভেঙে সোমবার তিনি জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় ফ্রান্স তার পারমাণবিক সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন এবং মিত্রদের সুরক্ষায় ফ্রান্সের এই পদক্ষেপকে বিশ্ব রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সোমবার উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের এল’ইল লং সামরিক ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি ফ্রান্সের সব ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী সাবমেরিনের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, বর্তমানে ফ্রান্সের ভাণ্ডারে ৩০০টিরও কম পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। যদিও ঠিক কতটি নতুন ওয়ারহেড যুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রদান করেননি। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা হবে ১৯৯২ সালের পর ফ্রান্সের পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বাড়ানোর প্রথম ঘটনা।
ম্যাক্রোঁ তার বক্তব্যে বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাকে এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটনের পরিবর্তিত নীতির কারণে ইউরোপের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে, তাই ফ্রান্সের নিজস্ব পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এই নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে ফ্রান্স এখন থেকে তার মিত্র দেশগুলোতে অস্থায়ীভাবে পরমাণু অস্ত্রবাহী যুদ্ধবিমান মোতায়েনের অনুমতি প্রদান করবে। এছাড়া জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে অধিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রকল্পেও ফ্রান্স কাজ করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের অধিকাংশ রাষ্ট্র সম্ভাব্য শত্রুদের দমনে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে আসছে, যা ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তার এক মজবুত ভিত্তি হিসেবে পরিচিত। তবে ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নমনীয় মনোভাব এবং পুরোনো মিত্রদের প্রতি তার কঠোর অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এই অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যেই ম্যাক্রোঁ এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুনের মাঝেই ফ্রান্সের এই শক্তি প্রদর্শন বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান ভয়াবহ সংঘাত যখন বিশ্বজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধির এক অভাবনীয় ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। কয়েক দশকের প্রচলিত নীতি ভেঙে সোমবার তিনি জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় ফ্রান্স তার পারমাণবিক সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন এবং মিত্রদের সুরক্ষায় ফ্রান্সের এই পদক্ষেপকে বিশ্ব রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সোমবার উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের এল’ইল লং সামরিক ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি ফ্রান্সের সব ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী সাবমেরিনের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, বর্তমানে ফ্রান্সের ভাণ্ডারে ৩০০টিরও কম পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। যদিও ঠিক কতটি নতুন ওয়ারহেড যুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রদান করেননি। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা হবে ১৯৯২ সালের পর ফ্রান্সের পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বাড়ানোর প্রথম ঘটনা।
ম্যাক্রোঁ তার বক্তব্যে বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাকে এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটনের পরিবর্তিত নীতির কারণে ইউরোপের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে, তাই ফ্রান্সের নিজস্ব পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এই নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে ফ্রান্স এখন থেকে তার মিত্র দেশগুলোতে অস্থায়ীভাবে পরমাণু অস্ত্রবাহী যুদ্ধবিমান মোতায়েনের অনুমতি প্রদান করবে। এছাড়া জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে অধিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রকল্পেও ফ্রান্স কাজ করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের অধিকাংশ রাষ্ট্র সম্ভাব্য শত্রুদের দমনে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে আসছে, যা ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তার এক মজবুত ভিত্তি হিসেবে পরিচিত। তবে ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নমনীয় মনোভাব এবং পুরোনো মিত্রদের প্রতি তার কঠোর অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এই অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যেই ম্যাক্রোঁ এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুনের মাঝেই ফ্রান্সের এই শক্তি প্রদর্শন বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

আপনার মতামত লিখুন