ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন খামেনিপত্নী

হামলায় আহত খামেনির স্ত্রী মারা গেছেন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬

হামলায় আহত খামেনির স্ত্রী মারা গেছেন
খামেনির সহধর্মিণী - মনসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সহধর্মিণী মনসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তেহরানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সোমবার (২ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, একই দিনে পরিচালিত ওই ভয়াবহ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও প্রাণ হারান। এই হামলার মাধ্যমে খামেনি পরিবারের ওপর যে অপূরণীয় আঘাত এসেছে, তা ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিয়োগান্তক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও মনসুরেহ দম্পতির সংসার ছিল চার ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে। তাদের সন্তানদের মধ্যে মোস্তফা, মোজতবা, মাসুদ, মেয়সাম এবং দুই কন্যা বুশরা ও হোদা সবসময়ই প্রচারবিমুখ জীবনযাপন করতেন। তবে ভাইবোনদের মধ্যে মোজতবা খামেনিকে বিশ্লেষকরা নেপথ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং তার বাবার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করতেন। প্রভাবশালী রাজনীতিক গোলাম-আলী হাদ্দাদ-আদেলের কন্যাকে বিয়ে করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করেছিলেন মোজতবা। অন্যদিকে খামেনির অন্য সন্তানরা এবং তার ভাইবোনেরা মূলত লোকচক্ষুর আড়ালেই থাকতে পছন্দ করতেন। যদিও তার এক বোন বদরি আশির দশকে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় নির্বাসনে গিয়েছিলেন।

শনিবারের ওই বিধ্বংসী হামলায় কেবল খামেনি দম্পতিই নন, বরং তাদের পরিবারের কয়েক প্রজন্ম কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিমান হামলায় খামেনির এক কন্যা, এক নাতি, এক পুত্রবধূ এবং এক জামাতাও নিহত হয়েছেন। যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে নিহতদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে একটি মাত্র আক্রমণে খামেনির সাত নাতি-নাতনির মধ্যে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞে একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক পরিবারের বংশলতিকার এক বিশাল অংশ মুছে গেল।

মনসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহর জীবন ছিল এক নীরব সমর্থনের মহাকাব্য। ১৯৪৭ সালে এক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম নেওয়া মনসুরেহর সাথে ১৯৬৪ সালে খামেনির বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন হয়। সফল ব্যবসায়ী বাবা মোহাম্মদ ইসমাইল খোজাস্তেহর আদুরে কন্যা হওয়া সত্ত্বেও ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে শাহের শাসনামলে স্বামীর কারাবরণ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের দিনগুলোতে তিনি ছায়ার মতো পাশে ছিলেন। সরকারি কোনো পদে আসীন না হয়েও পর্দার অন্তরালে থেকে তিনি যেভাবে খামেনির রাজনৈতিক জীবনকে স্থিতিশীল রেখেছিলেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আজ তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইরানের একটি যুগের অবসান ঘটল।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


হামলায় আহত খামেনির স্ত্রী মারা গেছেন

প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সহধর্মিণী মনসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তেহরানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সোমবার (২ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, একই দিনে পরিচালিত ওই ভয়াবহ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও প্রাণ হারান। এই হামলার মাধ্যমে খামেনি পরিবারের ওপর যে অপূরণীয় আঘাত এসেছে, তা ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিয়োগান্তক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।


আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও মনসুরেহ দম্পতির সংসার ছিল চার ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে। তাদের সন্তানদের মধ্যে মোস্তফা, মোজতবা, মাসুদ, মেয়সাম এবং দুই কন্যা বুশরা ও হোদা সবসময়ই প্রচারবিমুখ জীবনযাপন করতেন। তবে ভাইবোনদের মধ্যে মোজতবা খামেনিকে বিশ্লেষকরা নেপথ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং তার বাবার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করতেন। প্রভাবশালী রাজনীতিক গোলাম-আলী হাদ্দাদ-আদেলের কন্যাকে বিয়ে করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করেছিলেন মোজতবা। অন্যদিকে খামেনির অন্য সন্তানরা এবং তার ভাইবোনেরা মূলত লোকচক্ষুর আড়ালেই থাকতে পছন্দ করতেন। যদিও তার এক বোন বদরি আশির দশকে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় নির্বাসনে গিয়েছিলেন।


শনিবারের ওই বিধ্বংসী হামলায় কেবল খামেনি দম্পতিই নন, বরং তাদের পরিবারের কয়েক প্রজন্ম কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিমান হামলায় খামেনির এক কন্যা, এক নাতি, এক পুত্রবধূ এবং এক জামাতাও নিহত হয়েছেন। যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে নিহতদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে একটি মাত্র আক্রমণে খামেনির সাত নাতি-নাতনির মধ্যে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞে একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক পরিবারের বংশলতিকার এক বিশাল অংশ মুছে গেল।


মনসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহর জীবন ছিল এক নীরব সমর্থনের মহাকাব্য। ১৯৪৭ সালে এক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম নেওয়া মনসুরেহর সাথে ১৯৬৪ সালে খামেনির বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন হয়। সফল ব্যবসায়ী বাবা মোহাম্মদ ইসমাইল খোজাস্তেহর আদুরে কন্যা হওয়া সত্ত্বেও ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে শাহের শাসনামলে স্বামীর কারাবরণ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের দিনগুলোতে তিনি ছায়ার মতো পাশে ছিলেন। সরকারি কোনো পদে আসীন না হয়েও পর্দার অন্তরালে থেকে তিনি যেভাবে খামেনির রাজনৈতিক জীবনকে স্থিতিশীল রেখেছিলেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আজ তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইরানের একটি যুগের অবসান ঘটল।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ