ইরানের মাটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং বিধ্বংসী পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সোমবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। হেগসেথ দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই সামরিক পদক্ষেপ কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদী বা ‘অনন্ত যুদ্ধে’ রূপ নেবে না। বরং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমেই এই অভিযানের পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানি হামলায় চারজন মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেন। তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান যে, এ ধরনের বড় মাপের সামরিক অভিযানে হতাহতের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না বলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন। ওয়াশিংটন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, যারা মার্কিন বাহিনীর ক্ষতি করেছে, তাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।
পিট হেগসেথ এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানি জনগণের প্রতি একটি বিশেষ বার্তা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন আশা করে ইরানের সাধারণ মানুষ এই ‘অসাধারণ সুযোগটি’ কাজে লাগাবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সময়টি ইরানিদের জন্য নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের শ্রেষ্ঠ সময়। মূলত ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাতের লক্ষ্যে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করেছে পেন্টাগন। একই সাথে তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তাদের প্রতিটি পরবর্তী পদক্ষেপ অত্যন্ত ভেবেচিন্তে নেওয়া উচিত, অন্যথায় পরিনাম ভয়াবহ হতে পারে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বর্তমান অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা, নৌ-সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অবকাঠামোসমূহ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া। ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। হেগসেথ অভিযোগ করেন যে, তেহরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করতে প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অপকৌশল গ্রহণ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পিট হেগসেথ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি ওই চুক্তিটিকে একটি ‘ব্যর্থ চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, বর্তমান প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষায় এই অভিযানকে অপরিহার্য বলে মনে করছে পেন্টাগন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬
ইরানের মাটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং বিধ্বংসী পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সোমবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। হেগসেথ দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই সামরিক পদক্ষেপ কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদী বা ‘অনন্ত যুদ্ধে’ রূপ নেবে না। বরং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমেই এই অভিযানের পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানি হামলায় চারজন মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেন। তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান যে, এ ধরনের বড় মাপের সামরিক অভিযানে হতাহতের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না বলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন। ওয়াশিংটন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, যারা মার্কিন বাহিনীর ক্ষতি করেছে, তাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।
পিট হেগসেথ এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানি জনগণের প্রতি একটি বিশেষ বার্তা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন আশা করে ইরানের সাধারণ মানুষ এই ‘অসাধারণ সুযোগটি’ কাজে লাগাবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সময়টি ইরানিদের জন্য নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের শ্রেষ্ঠ সময়। মূলত ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাতের লক্ষ্যে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করেছে পেন্টাগন। একই সাথে তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তাদের প্রতিটি পরবর্তী পদক্ষেপ অত্যন্ত ভেবেচিন্তে নেওয়া উচিত, অন্যথায় পরিনাম ভয়াবহ হতে পারে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বর্তমান অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা, নৌ-সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অবকাঠামোসমূহ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া। ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। হেগসেথ অভিযোগ করেন যে, তেহরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করতে প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অপকৌশল গ্রহণ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পিট হেগসেথ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি ওই চুক্তিটিকে একটি ‘ব্যর্থ চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, বর্তমান প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষায় এই অভিযানকে অপরিহার্য বলে মনে করছে পেন্টাগন।

আপনার মতামত লিখুন