ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ১ মার্চ ২০২৬-এর সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, খামেনি হত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ও তার মিত্রবাহিনীগুলো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে স্মরণকালের ভয়াবহতম হামলা শুরু করেছে। পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে শুরু করে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা পর্যন্ত কোনোটিই এই আক্রমণ থেকে বাদ যায়নি।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'আব্রাহাম লিংকন'-এ একঝাঁক ড্রোন ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় রণতরীটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন নৌসেনা হতাহত হয়েছেন বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। একই সময়ে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও ইরান থেকে ছোঁড়া ড্রোনের আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিশোধের এই আগুন কেবল সামরিক ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের ওপরও। ইরানের ড্রোনগুলো সৌদি আরবের বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার আরামকোর 'রাস তানুরা' কেন্দ্রে সরাসরি আঘাত হেনেছে। এর ফলে সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে এবং সৌদি আরব তাদের তেল শোধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধসের পূর্বাভাস দিচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে খামেনির শূন্যস্থান পূরণে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী গঠিত অন্তর্বর্তী পরিষদ বর্তমানে রাষ্ট্রের হাল ধরলেও, পর্দার আড়ালে নতুন স্থায়ী নেতা নির্বাচনের জন্য 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস'-এর জরুরি বৈঠক চলছে। এর মধ্যেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে যে, ইরান যদি তাদের হামলা বন্ধ না করে, তবে তেহরানের ওপর আরও ভয়াবহ বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখা হবে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক পূর্ণাঙ্গ মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ১ মার্চ ২০২৬-এর সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, খামেনি হত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ও তার মিত্রবাহিনীগুলো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে স্মরণকালের ভয়াবহতম হামলা শুরু করেছে। পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে শুরু করে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা পর্যন্ত কোনোটিই এই আক্রমণ থেকে বাদ যায়নি।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'আব্রাহাম লিংকন'-এ একঝাঁক ড্রোন ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় রণতরীটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন নৌসেনা হতাহত হয়েছেন বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। একই সময়ে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও ইরান থেকে ছোঁড়া ড্রোনের আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিশোধের এই আগুন কেবল সামরিক ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের ওপরও। ইরানের ড্রোনগুলো সৌদি আরবের বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার আরামকোর 'রাস তানুরা' কেন্দ্রে সরাসরি আঘাত হেনেছে। এর ফলে সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে এবং সৌদি আরব তাদের তেল শোধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধসের পূর্বাভাস দিচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে খামেনির শূন্যস্থান পূরণে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী গঠিত অন্তর্বর্তী পরিষদ বর্তমানে রাষ্ট্রের হাল ধরলেও, পর্দার আড়ালে নতুন স্থায়ী নেতা নির্বাচনের জন্য 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস'-এর জরুরি বৈঠক চলছে। এর মধ্যেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে যে, ইরান যদি তাদের হামলা বন্ধ না করে, তবে তেহরানের ওপর আরও ভয়াবহ বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখা হবে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক পূর্ণাঙ্গ মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

আপনার মতামত লিখুন