ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর উদ্ভূত চরম উত্তজনা ও সামরিক সংঘাতের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে একটি টেকসই কূটনৈতিক সমাধান এখন ‘সহজেই’ অর্জন করা সম্ভব। রণক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে তেহরান এখন আলোচনার টেবিলে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হবে বলেই মনে করছেন হোয়াইট হাউস প্রধান।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের মুখোমুখি না হলেও শনিবার সারাদিন তিনি বিভিন্ন মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কে ফোনকলের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। সিবিএস নিউজের বব কস্তাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘মার্কিন সামরিক অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। আমি মনে করি, এক দিন আগের তুলনায় এখন কূটনৈতিক সমঝোতা অনেক বেশি সহজ হয়ে গেছে। কারণ, তারা (ইরান) বর্তমানে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে এবং আমাদের সামরিক পদক্ষেপের ফলে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
চলতি সপ্তাহে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সর্বশেষ ধাপটি কোনো প্রকার চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেয়, যা শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ হামলায় রূপ নেয়। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই সামরিক চাপই মূলত ইরানকে আলোচনার টেবিলে ওয়াশিংটনের শর্ত মানতে বাধ্য করার মোক্ষম হাতিয়ার। তিনি মনে করেন, নেতৃত্বের শূন্যতা ও সামরিক দুর্বলতা ইরানকে সমঝোতার পথে আসতে বাধ্য করবে।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছেন, যদিও ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরবর্তী উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করেননি। খামেনির পর কে ইরানের হাল ধরবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি কারো নাম উল্লেখ না করলেও তিনি এক রহস্যময় ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, তার বিবেচনায় ‘যোগ্য কিছু প্রার্থী’ রয়েছেন, যাদের তিনি ইরানের শাসনক্ষমতায় দেখতে পছন্দ করবেন। তার এই মন্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষাকেই স্পষ্ট করে তোলে।
যদিও ট্রাম্প মুখে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলছেন, তবুও তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তে এখনো ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রম নিয়ে ওয়াশিংটনের দেওয়া কঠোর শর্তগুলো মেনে নিচ্ছে, ততক্ষণ এই সামরিক চাপ ও আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। ফলে আলোচনার টেবিল না কি রণক্ষেত্র— শেষ পর্যন্ত ইরান কোন পথ বেছে নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর উদ্ভূত চরম উত্তজনা ও সামরিক সংঘাতের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে একটি টেকসই কূটনৈতিক সমাধান এখন ‘সহজেই’ অর্জন করা সম্ভব। রণক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে তেহরান এখন আলোচনার টেবিলে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হবে বলেই মনে করছেন হোয়াইট হাউস প্রধান।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের মুখোমুখি না হলেও শনিবার সারাদিন তিনি বিভিন্ন মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কে ফোনকলের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। সিবিএস নিউজের বব কস্তাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘মার্কিন সামরিক অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। আমি মনে করি, এক দিন আগের তুলনায় এখন কূটনৈতিক সমঝোতা অনেক বেশি সহজ হয়ে গেছে। কারণ, তারা (ইরান) বর্তমানে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে এবং আমাদের সামরিক পদক্ষেপের ফলে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
চলতি সপ্তাহে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সর্বশেষ ধাপটি কোনো প্রকার চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেয়, যা শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ হামলায় রূপ নেয়। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই সামরিক চাপই মূলত ইরানকে আলোচনার টেবিলে ওয়াশিংটনের শর্ত মানতে বাধ্য করার মোক্ষম হাতিয়ার। তিনি মনে করেন, নেতৃত্বের শূন্যতা ও সামরিক দুর্বলতা ইরানকে সমঝোতার পথে আসতে বাধ্য করবে।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছেন, যদিও ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরবর্তী উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করেননি। খামেনির পর কে ইরানের হাল ধরবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি কারো নাম উল্লেখ না করলেও তিনি এক রহস্যময় ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, তার বিবেচনায় ‘যোগ্য কিছু প্রার্থী’ রয়েছেন, যাদের তিনি ইরানের শাসনক্ষমতায় দেখতে পছন্দ করবেন। তার এই মন্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষাকেই স্পষ্ট করে তোলে।
যদিও ট্রাম্প মুখে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলছেন, তবুও তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তে এখনো ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রম নিয়ে ওয়াশিংটনের দেওয়া কঠোর শর্তগুলো মেনে নিচ্ছে, ততক্ষণ এই সামরিক চাপ ও আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। ফলে আলোচনার টেবিল না কি রণক্ষেত্র— শেষ পর্যন্ত ইরান কোন পথ বেছে নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন