ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

খামেনি হত্যার বদলা নিতে একজোট হিজবুল্লাহ-হামাস-হুথি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬

খামেনি হত্যার বদলা নিতে একজোট হিজবুল্লাহ-হামাস-হুথি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ অস্থিরতা ও চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। খামেনির এই প্রয়াণকে কেন্দ্র করে ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষের শরিক দলগুলো এখন ফুঁসে উঠেছে। তারা একযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে, যা এই অঞ্চলের সংঘাতকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এই শক্তিশালী নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি যেকোনো ধরনের আগ্রাসন রুখে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, খামেনির শূন্যতা পূরণে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া এখন সরাসরি ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসি-র তদারকিতে শুরু হয়েছে। ফলে রণক্ষেত্রে হিজবুল্লাহর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর বিশ্বশক্তির।

ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসও এই ঘটনাকে একটি জঘন্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে দায়ী করে বলেছে যে, এই ঘটনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। হামাস নেতাদের মতে, এই হঠকারী সিদ্ধান্তের পরিণাম হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে বাধ্য।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও এই পরিস্থিতিতে চুপ করে বসে নেই। গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতা আব্দুল মালিক আল-হুথি সরাসরি যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ রক্ষায় তারা যেকোনো স্তরের সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। লোহিত সাগরে পশ্চিমা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আরও জোরদার করার প্রকাশ্য হুমকিও দিয়ে রেখেছে তারা। একই সুর শোনা যাচ্ছে ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর কণ্ঠেও। কাতায়িব হিজবুল্লাহর মতো প্রভাবশালী সশস্ত্র সংগঠনগুলো হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানের ওপর এই আঘাতের ফলস্বরূপ পুরো অঞ্চলে একটি ‘টোটাল ওয়ার’ বা সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, খামেনির প্রয়াণের পর ইরানের পরবর্তী উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে নানা জল্পনা ও সমীকরণ চলছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় জোরালোভাবে উঠে আসছে খামেনির পুত্র মোজতাবা খামেনি এবং সাবেক আইআরজিসি কর্মকর্তা আলি লারিজানির নাম। নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আঞ্চলিক সমরনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


খামেনি হত্যার বদলা নিতে একজোট হিজবুল্লাহ-হামাস-হুথি

প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ অস্থিরতা ও চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। খামেনির এই প্রয়াণকে কেন্দ্র করে ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষের শরিক দলগুলো এখন ফুঁসে উঠেছে। তারা একযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে, যা এই অঞ্চলের সংঘাতকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।


এই শক্তিশালী নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি যেকোনো ধরনের আগ্রাসন রুখে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, খামেনির শূন্যতা পূরণে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া এখন সরাসরি ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসি-র তদারকিতে শুরু হয়েছে। ফলে রণক্ষেত্রে হিজবুল্লাহর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর বিশ্বশক্তির।


ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসও এই ঘটনাকে একটি জঘন্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে দায়ী করে বলেছে যে, এই ঘটনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। হামাস নেতাদের মতে, এই হঠকারী সিদ্ধান্তের পরিণাম হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে বাধ্য।


ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও এই পরিস্থিতিতে চুপ করে বসে নেই। গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতা আব্দুল মালিক আল-হুথি সরাসরি যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ রক্ষায় তারা যেকোনো স্তরের সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। লোহিত সাগরে পশ্চিমা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আরও জোরদার করার প্রকাশ্য হুমকিও দিয়ে রেখেছে তারা। একই সুর শোনা যাচ্ছে ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর কণ্ঠেও। কাতায়িব হিজবুল্লাহর মতো প্রভাবশালী সশস্ত্র সংগঠনগুলো হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানের ওপর এই আঘাতের ফলস্বরূপ পুরো অঞ্চলে একটি ‘টোটাল ওয়ার’ বা সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।


অন্যদিকে, খামেনির প্রয়াণের পর ইরানের পরবর্তী উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে নানা জল্পনা ও সমীকরণ চলছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় জোরালোভাবে উঠে আসছে খামেনির পুত্র মোজতাবা খামেনি এবং সাবেক আইআরজিসি কর্মকর্তা আলি লারিজানির নাম। নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আঞ্চলিক সমরনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ