ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির মানচিত্র: কোথায় কত সেনা?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির মানচিত্র: কোথায় কত সেনা?
চিত্র : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কোনো নতুন বিষয় নয়। গত কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলে তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো বিস্তৃত হয়েছে। তবে সম্প্রতি ইরানের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে হামলা ও ক্রমবর্ধমান উত্তজনা এই প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে—ঠিক কোথায় কোথায় মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এবং সেখানে কত সেনা ও কী ধরনের রণকৌশল কাজ করছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, যেখানে ৪০ থেকে ৫০ হাজার বা তারও বেশি সেনা মোতায়েন আছে। পেন্টাগন একে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার কৌশল বললেও মধ্যপ্রাচ্যের নানা ইস্যুতে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা এখন অত্যন্ত স্পষ্ট।


বাহরাইন :

মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের প্রধান সদর দপ্তর বাহরাইনে অবস্থিত। এই গুরুত্বপূর্ণ বহরের দায়িত্বের আওতায় রয়েছে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরের বিশাল অংশ। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এই ঘাঁটিটি বিবেচিত হয়।

কাতার :

দোহার অদূরে মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত আল উদেইদ এয়ার বেস বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। প্রায় ২৪ হেক্টর আয়তনের এই ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। এটি মূলত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি অগ্রবর্তী সদর দপ্তর, যেখান থেকে মিসর থেকে শুরু করে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এখানে একটি অত্যাধুনিক এয়ার ও মিসাইল ডিফেন্স সমন্বয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তবে ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও পরিস্থিতির কারণে বুধবারের মধ্যে এখান থেকে কিছু সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কুয়েত :

কুয়েতের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শক্তিশালী সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে ক্যাম্প আরিফজান হচ্ছে মার্কিন আর্মি সেন্ট্রালের প্রধান ফরওয়ার্ড সদর দপ্তর। এছাড়া ইরাক সীমান্তের কাছে অবস্থিত আলি আল সালেম এয়ার বেসটি সামরিক মহলে ‘দ্য রক’ নামে পরিচিত। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় স্থাপিত ক্যাম্প বুয়েরিং বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়ায় নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট ও স্টেজিং ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত :

আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল ধাফরা এয়ার বেস মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি কৌশলগত কেন্দ্র। আইএসবিরোধী অভিযান ও উন্নত গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রমে এই ঘাঁটিটি বড় ভূমিকা রেখে আসছে। এছাড়া দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সামরিক ঘাঁটি না হলেও, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য এটি সবচেয়ে বড় লজিস্টিক ও বন্দর ব্যবহার কেন্দ্র।

ইরাক :

ইরাকের কয়েকটি কৌশলগত ঘাঁটিতে বর্তমানে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে। এর মধ্যে পশ্চিম আনবার প্রদেশের আইন আল আসাদ এয়ার বেসটি অন্যতম। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান সরাসরি এই ঘাঁটিতেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। এছাড়া উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত এরবিল এয়ার বেস প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও লজিস্টিক সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

সৌদি আরব :

২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী সৌদি আরবে প্রায় ২ হাজার ৩২১ জন মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তারা মূলত সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। রিয়াদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট মিসাইল ও থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।

জর্ডান :

জর্ডানের আম্মান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আজরাকে অবস্থিত মুয়াফ্ফাক আল সালতি এয়ার বেসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩৩২তম এয়ার এক্সপেডিশনারি উইং অবস্থান করছে। মূলত এই ঘাঁটি থেকেই লেভান্ত অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক অপারেশন ও আকাশপথের মিশনগুলো পরিচালিত হয়।

তুরস্ক :

তুরস্কের আদানা প্রদেশে অবস্থিত ইনসিরলিক এয়ার বেসটি যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। এই ঘাঁটির একটি বিশেষ দিক হলো, এখানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র মজুত রাখা হয়েছে। সিরিয়া ও ইরাকে ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানে এই ঘাঁটিটির ব্যবহার ছিল অনস্বীকার্য। বর্তমানে তুরস্কে প্রায় ১ হাজার ৪৬৫ জন মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির মানচিত্র: কোথায় কত সেনা?

প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কোনো নতুন বিষয় নয়। গত কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলে তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো বিস্তৃত হয়েছে। তবে সম্প্রতি ইরানের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে হামলা ও ক্রমবর্ধমান উত্তজনা এই প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে—ঠিক কোথায় কোথায় মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এবং সেখানে কত সেনা ও কী ধরনের রণকৌশল কাজ করছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, যেখানে ৪০ থেকে ৫০ হাজার বা তারও বেশি সেনা মোতায়েন আছে। পেন্টাগন একে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার কৌশল বললেও মধ্যপ্রাচ্যের নানা ইস্যুতে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা এখন অত্যন্ত স্পষ্ট।


বাহরাইন :

মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের প্রধান সদর দপ্তর বাহরাইনে অবস্থিত। এই গুরুত্বপূর্ণ বহরের দায়িত্বের আওতায় রয়েছে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরের বিশাল অংশ। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এই ঘাঁটিটি বিবেচিত হয়।


কাতার :

দোহার অদূরে মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত আল উদেইদ এয়ার বেস বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। প্রায় ২৪ হেক্টর আয়তনের এই ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। এটি মূলত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি অগ্রবর্তী সদর দপ্তর, যেখান থেকে মিসর থেকে শুরু করে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এখানে একটি অত্যাধুনিক এয়ার ও মিসাইল ডিফেন্স সমন্বয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তবে ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও পরিস্থিতির কারণে বুধবারের মধ্যে এখান থেকে কিছু সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


কুয়েত :

কুয়েতের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শক্তিশালী সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে ক্যাম্প আরিফজান হচ্ছে মার্কিন আর্মি সেন্ট্রালের প্রধান ফরওয়ার্ড সদর দপ্তর। এছাড়া ইরাক সীমান্তের কাছে অবস্থিত আলি আল সালেম এয়ার বেসটি সামরিক মহলে ‘দ্য রক’ নামে পরিচিত। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় স্থাপিত ক্যাম্প বুয়েরিং বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়ায় নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট ও স্টেজিং ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


সংযুক্ত আরব আমিরাত :

আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল ধাফরা এয়ার বেস মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি কৌশলগত কেন্দ্র। আইএসবিরোধী অভিযান ও উন্নত গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রমে এই ঘাঁটিটি বড় ভূমিকা রেখে আসছে। এছাড়া দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সামরিক ঘাঁটি না হলেও, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য এটি সবচেয়ে বড় লজিস্টিক ও বন্দর ব্যবহার কেন্দ্র।


ইরাক :

ইরাকের কয়েকটি কৌশলগত ঘাঁটিতে বর্তমানে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে। এর মধ্যে পশ্চিম আনবার প্রদেশের আইন আল আসাদ এয়ার বেসটি অন্যতম। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান সরাসরি এই ঘাঁটিতেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। এছাড়া উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত এরবিল এয়ার বেস প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও লজিস্টিক সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।


সৌদি আরব :

২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী সৌদি আরবে প্রায় ২ হাজার ৩২১ জন মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তারা মূলত সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। রিয়াদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট মিসাইল ও থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।


জর্ডান :

জর্ডানের আম্মান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আজরাকে অবস্থিত মুয়াফ্ফাক আল সালতি এয়ার বেসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩৩২তম এয়ার এক্সপেডিশনারি উইং অবস্থান করছে। মূলত এই ঘাঁটি থেকেই লেভান্ত অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক অপারেশন ও আকাশপথের মিশনগুলো পরিচালিত হয়।


তুরস্ক :

তুরস্কের আদানা প্রদেশে অবস্থিত ইনসিরলিক এয়ার বেসটি যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। এই ঘাঁটির একটি বিশেষ দিক হলো, এখানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র মজুত রাখা হয়েছে। সিরিয়া ও ইরাকে ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানে এই ঘাঁটিটির ব্যবহার ছিল অনস্বীকার্য। বর্তমানে তুরস্কে প্রায় ১ হাজার ৪৬৫ জন মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ