ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বান্দরবানে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, আট মালিকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা



বান্দরবানে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, আট মালিকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বান্দরবানে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ

পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বান্দরবানে পাঁচটি অবৈধ ইটভাটার আট মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। রোববার (১ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পরিবেশ আদালতের পেশকার মাহবুব কাদের

আদালত ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বান্দরবান জেলার পাঁচটি উপজেলায় অনুমোদন ছাড়া পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে মোট ৭০টি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৪২টি ভাটা সচল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক অভিযানে কয়েকটি ভাটাকে অর্থদণ্ড ও বুলডোজার-এক্সকাভেটর দিয়ে আংশিকভাবে ভাঙা হলেও পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর আট ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করে। এর মধ্যে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় আট মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বান্দরবান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পরিবেশ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসেন

পরোয়ানা জারি হওয়া মালিকরা হলেন

থানচি উপজেলার এমএসবি ভাটার মালিক যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান সুজন (মামলা নং ০৩/২৬);

আলীকদম উপজেলার এবিএম ইটভাটার মালিক আওয়ামী লীগ নেতা সামছুদ্দিনএখলাচুর রহমান (মামলা নং ০৫/২৬);

ইউবিএম ইটভাটার মালিক আলীকদম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন (মামলা নং ০৪/২৬);

এফবিএম ইটভাটার মালিক আওয়ামী লীগের সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রীর ভাই শওকত তালুকদার (মামলা নং ০২/২৬);

এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিবিএম ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ আবু ছৈয়দ, আবুল বশরফরিদ আহমদ (মামলা নং ০১/২৬)।

পেশকার মাহবুব কাদের বলেন, অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলাগুলোর শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানান, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ৮০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং আটটি ভাটার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, অবৈধ ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি জেনে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে অবৈধ ইটভাটা নির্মাণে বন উজাড়, পাহাড় কাটা এবং বায়ুদূষণের ঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


বান্দরবানে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, আট মালিকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬

featured Image

পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বান্দরবানে পাঁচটি অবৈধ ইটভাটার আট মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। রোববার (১ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পরিবেশ আদালতের পেশকার মাহবুব কাদের

আদালত ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বান্দরবান জেলার পাঁচটি উপজেলায় অনুমোদন ছাড়া পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে মোট ৭০টি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৪২টি ভাটা সচল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক অভিযানে কয়েকটি ভাটাকে অর্থদণ্ড ও বুলডোজার-এক্সকাভেটর দিয়ে আংশিকভাবে ভাঙা হলেও পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর আট ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করে। এর মধ্যে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় আট মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বান্দরবান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পরিবেশ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসেন

পরোয়ানা জারি হওয়া মালিকরা হলেন

থানচি উপজেলার এমএসবি ভাটার মালিক যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান সুজন (মামলা নং ০৩/২৬);

আলীকদম উপজেলার এবিএম ইটভাটার মালিক আওয়ামী লীগ নেতা সামছুদ্দিনএখলাচুর রহমান (মামলা নং ০৫/২৬);

ইউবিএম ইটভাটার মালিক আলীকদম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন (মামলা নং ০৪/২৬);

এফবিএম ইটভাটার মালিক আওয়ামী লীগের সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রীর ভাই শওকত তালুকদার (মামলা নং ০২/২৬);

এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিবিএম ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ আবু ছৈয়দ, আবুল বশরফরিদ আহমদ (মামলা নং ০১/২৬)।

পেশকার মাহবুব কাদের বলেন, অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলাগুলোর শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানান, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ৮০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং আটটি ভাটার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, অবৈধ ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি জেনে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে অবৈধ ইটভাটা নির্মাণে বন উজাড়, পাহাড় কাটা এবং বায়ুদূষণের ঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ