২০২৬ সালের ১ মার্চ ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক ভয়াবহ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। শনিবার সকালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর পুরো অঞ্চল এখন অগ্নিগর্ভ। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরান কেবল সামরিক প্রতিশোধই নিচ্ছে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং কাতারের বিপুল পরিমাণ এলএনজি পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, শত শত তেলের ট্যাঙ্কার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের কাছে আটকা পড়ে আছে। বড় বড় শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের রুট পরিবর্তন করছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরেও নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দিয়েছে। খামেনির পাশাপাশি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাজিরজাদেহ এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান লে. জেনারেল আব্দুলরহিম মৌসাভি। বর্তমানে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী পরিষদ দেশটির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি-ইজেই। তিনি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, এই ধরনের হামলায় মুজাহিদদের মনোবল ভাঙা যাবে না এবং ইরান তার নীতি থেকে সরবে না।
প্রতিশোধ হিসেবে ইরান দুবাই, দোহা এবং বাহরাইনের মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে কাতারের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটি এবং দুবাই বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
এই উত্তেজনার আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। পাকিস্তানে খামেনি হত্যার প্রতিবাদে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরাক সরকার দেশটিতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পাল্টা হামলা না চালাতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি সীমা লঙ্ঘন করে তবে এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করা হবে যা পৃথিবী আগে কখনো দেখেনি।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল থেকে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতি পর্যন্ত।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
২০২৬ সালের ১ মার্চ ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক ভয়াবহ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। শনিবার সকালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর পুরো অঞ্চল এখন অগ্নিগর্ভ। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরান কেবল সামরিক প্রতিশোধই নিচ্ছে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং কাতারের বিপুল পরিমাণ এলএনজি পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, শত শত তেলের ট্যাঙ্কার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের কাছে আটকা পড়ে আছে। বড় বড় শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের রুট পরিবর্তন করছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরেও নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দিয়েছে। খামেনির পাশাপাশি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাজিরজাদেহ এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান লে. জেনারেল আব্দুলরহিম মৌসাভি। বর্তমানে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী পরিষদ দেশটির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি-ইজেই। তিনি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, এই ধরনের হামলায় মুজাহিদদের মনোবল ভাঙা যাবে না এবং ইরান তার নীতি থেকে সরবে না।
প্রতিশোধ হিসেবে ইরান দুবাই, দোহা এবং বাহরাইনের মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে কাতারের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটি এবং দুবাই বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
এই উত্তেজনার আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। পাকিস্তানে খামেনি হত্যার প্রতিবাদে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরাক সরকার দেশটিতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পাল্টা হামলা না চালাতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি সীমা লঙ্ঘন করে তবে এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করা হবে যা পৃথিবী আগে কখনো দেখেনি।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল থেকে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতি পর্যন্ত।

আপনার মতামত লিখুন