ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

খামেনিকে হত্যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক ভুল’: কঠোর প্রতিশোধের হুঙ্কার আইআরজিসির


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬

খামেনিকে হত্যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক ভুল’: কঠোর প্রতিশোধের হুঙ্কার আইআরজিসির

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ‘বিরাট কৌশলগত ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের উপদেষ্টা হারলান উলম্যান সতর্ক করে বলেছেন, শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূলের এই নীতি মধ্যপ্রাচ্যে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং ইরানকে আরও কঠোর অবস্থানের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আজ রবিবার (১ মার্চ) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হারলান উলম্যান বলেন, খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে তাঁকে ‘শহীদ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, যা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আলী লারিজানি অত্যন্ত দক্ষ ও কঠোর প্রশাসক। তাঁর হাতে নেতৃত্ব চলে যাওয়া মানে ওয়াশিংটনের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়া। উলম্যানের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশকে নির্মূল করা গেলেও পুরো ব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এদিকে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ইরানের শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক অগ্নিগর্ভ শোকবার্তায় দখলদার ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা ‘মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই’ শুরু হতে যাচ্ছে এবং কোনো অপরাধীই পার পাবে না।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে খামেনিকে ইতিহাসের অন্যতম ‘নিকৃষ্ট ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে এই ‘নিখুঁত’ অপারেশন চালানো হয়েছে, যেখানে খামেনি বা তাঁর সহযোগীদের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক বাহিনীর অনেক সদস্য এখন আর যুদ্ধ করতে আগ্রহী নন এবং তাঁরা আমেরিকার কাছে দায়মুক্তি প্রার্থনা করছেন।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে এক দিনের অভিযানেই ইরান রাষ্ট্রটি অনেকটা ‘বিলীন’ হয়ে গেছে বলে দম্ভোক্তি করলেও, মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠার নাম করে সপ্তাহজুড়ে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। খামেনির স্মরণে ইরানে ইতিমধ্যেই ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুরু হয়েছে। আজ ভোরে নিজ দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি হামলার শিকার হন বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান। এই হত্যাকাণ্ড বিশ্বরাজনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


খামেনিকে হত্যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক ভুল’: কঠোর প্রতিশোধের হুঙ্কার আইআরজিসির

প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ‘বিরাট কৌশলগত ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের উপদেষ্টা হারলান উলম্যান সতর্ক করে বলেছেন, শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূলের এই নীতি মধ্যপ্রাচ্যে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং ইরানকে আরও কঠোর অবস্থানের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আজ রবিবার (১ মার্চ) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হারলান উলম্যান বলেন, খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে তাঁকে ‘শহীদ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, যা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আলী লারিজানি অত্যন্ত দক্ষ ও কঠোর প্রশাসক। তাঁর হাতে নেতৃত্ব চলে যাওয়া মানে ওয়াশিংটনের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়া। উলম্যানের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশকে নির্মূল করা গেলেও পুরো ব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এদিকে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ইরানের শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক অগ্নিগর্ভ শোকবার্তায় দখলদার ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা ‘মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই’ শুরু হতে যাচ্ছে এবং কোনো অপরাধীই পার পাবে না।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে খামেনিকে ইতিহাসের অন্যতম ‘নিকৃষ্ট ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে এই ‘নিখুঁত’ অপারেশন চালানো হয়েছে, যেখানে খামেনি বা তাঁর সহযোগীদের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক বাহিনীর অনেক সদস্য এখন আর যুদ্ধ করতে আগ্রহী নন এবং তাঁরা আমেরিকার কাছে দায়মুক্তি প্রার্থনা করছেন।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে এক দিনের অভিযানেই ইরান রাষ্ট্রটি অনেকটা ‘বিলীন’ হয়ে গেছে বলে দম্ভোক্তি করলেও, মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠার নাম করে সপ্তাহজুড়ে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। খামেনির স্মরণে ইরানে ইতিমধ্যেই ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুরু হয়েছে। আজ ভোরে নিজ দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি হামলার শিকার হন বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান। এই হত্যাকাণ্ড বিশ্বরাজনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ