জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাদের বরাতে জানা যায়, সংঘর্ষে গুরুতর আহত হাফিজুর রহমানকে প্রথমে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। অ্যাম্বুলেন্সে যশোর থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে হাফিজুর রহমান (৫০) মারা যান। তিনি বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের বড় ভাই এবং স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিহতের ছোট ভাই মফিজুর রহমান (৪৫) গুরুতর আহত অবস্থায় রাজধানীর বেসরকারি অরোরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। গতকাল রাত দুইটার দিকে জীবননগর পৌর যুব জামায়াতের সভাপতি আরিফ জোয়াদ্দার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, হাসাদাহের ঘটনায় নিহত হাফিজুর রহমান ঢাকার একজন জুয়েলার্স ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তার ভাই মফিজুর রহমানের অবস্থাও সংকটাপন্ন। এদিকে গত রাতেই চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ঢাকায় থেকে মরদেহ নিয়ে জীবননগরের বাঁকা ইউনিয়নে নিহতের নিজ বাড়িতে পৌঁছান বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগের সঙ্গে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদীর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে শনিবার রাতে হাসাদাহ বাজারে উভয়পক্ষের বসার কথা থাকলেও সন্ধ্যার দিকে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
আহত মেহেদী দাবি করেন, তিনি বাজারে থাকা অবস্থায় জানতে পারেন তাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। বাড়িতে গিয়ে দেখেন তার বাবাকে মারধর করা হচ্ছে। এ সময় কয়েকজন তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তার অভিযোগ, তাদের বাড়িঘর ভাঙচুরও করা হয়েছে। মেহেদীর বাবা জসিম উদ্দীন বলেন, নামাজ শেষে বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একদল লোক স্লোগান দিয়ে হামলা চালায় এবং তাকে মারধর করে। তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীদের হাতে রামদা, হকিস্টিক ও চায়নিজ কুড়াল ছিল।
অন্যদিকে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আখতারুজ্জামান বলেন, হামলায় জামায়াতের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। প্রয়োজনে তাদের ঢাকায় নেওয়া হতে পারে বলে তিনি জানান। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান সেখ বলেন, হাসাদাহে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাদের বরাতে জানা যায়, সংঘর্ষে গুরুতর আহত হাফিজুর রহমানকে প্রথমে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। অ্যাম্বুলেন্সে যশোর থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে হাফিজুর রহমান (৫০) মারা যান। তিনি বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের বড় ভাই এবং স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিহতের ছোট ভাই মফিজুর রহমান (৪৫) গুরুতর আহত অবস্থায় রাজধানীর বেসরকারি অরোরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। গতকাল রাত দুইটার দিকে জীবননগর পৌর যুব জামায়াতের সভাপতি আরিফ জোয়াদ্দার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, হাসাদাহের ঘটনায় নিহত হাফিজুর রহমান ঢাকার একজন জুয়েলার্স ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তার ভাই মফিজুর রহমানের অবস্থাও সংকটাপন্ন। এদিকে গত রাতেই চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ঢাকায় থেকে মরদেহ নিয়ে জীবননগরের বাঁকা ইউনিয়নে নিহতের নিজ বাড়িতে পৌঁছান বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগের সঙ্গে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদীর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে শনিবার রাতে হাসাদাহ বাজারে উভয়পক্ষের বসার কথা থাকলেও সন্ধ্যার দিকে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
আহত মেহেদী দাবি করেন, তিনি বাজারে থাকা অবস্থায় জানতে পারেন তাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। বাড়িতে গিয়ে দেখেন তার বাবাকে মারধর করা হচ্ছে। এ সময় কয়েকজন তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তার অভিযোগ, তাদের বাড়িঘর ভাঙচুরও করা হয়েছে। মেহেদীর বাবা জসিম উদ্দীন বলেন, নামাজ শেষে বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একদল লোক স্লোগান দিয়ে হামলা চালায় এবং তাকে মারধর করে। তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীদের হাতে রামদা, হকিস্টিক ও চায়নিজ কুড়াল ছিল।
অন্যদিকে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আখতারুজ্জামান বলেন, হামলায় জামায়াতের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। প্রয়োজনে তাদের ঢাকায় নেওয়া হতে পারে বলে তিনি জানান। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান সেখ বলেন, হাসাদাহে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন