ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার আগেই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছিলেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে সরাসরি হামলার পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল জাতীয় নিরাপত্তার শীর্ষ নেতা আলি লারিজানিকে। ৬৭ বছর বয়সি এই রাজনীতিবিদ আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার এবং দীর্ঘদিন পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন।
সরকারের ঘনিষ্ঠ রক্ষণশীল বিশ্লেষক নাসের ইমানি তেহরান থেকে জানান, খামেনি বিশ্বাস করতেন, তার রাজনৈতিক রেকর্ড, তীক্ষ্ণ মন ও জ্ঞানের কারণে এই সংবেদনশীল সময়ের জন্য লারিজানিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে এসেছেন লারিজানি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে পরামর্শের জন্য মস্কো সফর করেছেন তিনি। কাতার ও ওমানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা তদারকিতেও সক্রিয় ছিলেন। দোহায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমরা যুদ্ধ চাই না। তবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।"
এদিকে সংকটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। নীতিনির্ধারণী বহু বিষয়েই তাকে লারিজানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, খামেনি সামরিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য চার স্তরের উত্তরসূরি নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময় আত্মগোপনে থেকে সম্ভাব্য তিন উত্তরসূরির নামও ঠিক করেছিলেন তিনি। খামেনির ঘনিষ্ঠ বলয়ে ছিলেন সামরিক উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রাহিম সাফাভি, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং চিফ অব স্টাফ আলি আসগর হেজাজি। তবে শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা না হওয়ায় লারিজানি সর্বোচ্চ নেতার পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার আগেই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছিলেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে সরাসরি হামলার পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল জাতীয় নিরাপত্তার শীর্ষ নেতা আলি লারিজানিকে। ৬৭ বছর বয়সি এই রাজনীতিবিদ আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার এবং দীর্ঘদিন পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন।
সরকারের ঘনিষ্ঠ রক্ষণশীল বিশ্লেষক নাসের ইমানি তেহরান থেকে জানান, খামেনি বিশ্বাস করতেন, তার রাজনৈতিক রেকর্ড, তীক্ষ্ণ মন ও জ্ঞানের কারণে এই সংবেদনশীল সময়ের জন্য লারিজানিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে এসেছেন লারিজানি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে পরামর্শের জন্য মস্কো সফর করেছেন তিনি। কাতার ও ওমানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা তদারকিতেও সক্রিয় ছিলেন। দোহায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমরা যুদ্ধ চাই না। তবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।"
এদিকে সংকটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। নীতিনির্ধারণী বহু বিষয়েই তাকে লারিজানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, খামেনি সামরিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য চার স্তরের উত্তরসূরি নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময় আত্মগোপনে থেকে সম্ভাব্য তিন উত্তরসূরির নামও ঠিক করেছিলেন তিনি। খামেনির ঘনিষ্ঠ বলয়ে ছিলেন সামরিক উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রাহিম সাফাভি, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং চিফ অব স্টাফ আলি আসগর হেজাজি। তবে শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা না হওয়ায় লারিজানি সর্বোচ্চ নেতার পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন