প্রায় চার দশক ধরে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন? ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তৈরি হওয়া অস্থিরতার মধ্যেই তেহরানে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে উত্তরসূরি নির্ধারণের আলোচনা।
তবে মৃত্যুর আগেই ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি পরিকল্পনা রেখে গেছেন খামেনি। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক হতে হয় এবং তাকে নির্বাচিত করে বিশেষজ্ঞ পরিষদ নামের ধর্মীয় পরিষদ।
জানা গেছে, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে আত্মগোপনে থাকার সময় খামেনি তিনজন সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম নির্ধারণ করে গেছেন। তারা হলেন — বিচার বিভাগের বর্তমান প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই, খামেনির দপ্তরপ্রধান আলী আসগর হেজাজি এবং সংস্কারপন্থি ধারার ধর্মীয় নেতা ও ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি। এছাড়া খামেনিপুত্র মোজতবা খামেনির নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে, তবে খামেনি নিজে নেতৃত্বকে বংশানুক্রমিক করতে চাননি বলে জানা গেছে।
হামলার আগে খামেনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। তিনি কার্যত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে পাশ কাটিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছিলেন। যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব কাঠামোতে আলী আসগর হেজাজি, মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও ইয়াহিয়া রহিম সাফাভিকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আগেই বলেছিলেন, "আমাদের কিছু নেতা হারালেও সেটি বড় সমস্যা নয়, আত্মরক্ষায় আমাদের কোনো সীমা নেই।"
বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষজ্ঞ পরিষদের দ্রুত বৈঠক ডাকা হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতার ঘোষণা আসতে পারে। তবে চলমান সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
প্রায় চার দশক ধরে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন? ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তৈরি হওয়া অস্থিরতার মধ্যেই তেহরানে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে উত্তরসূরি নির্ধারণের আলোচনা।
তবে মৃত্যুর আগেই ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি পরিকল্পনা রেখে গেছেন খামেনি। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক হতে হয় এবং তাকে নির্বাচিত করে বিশেষজ্ঞ পরিষদ নামের ধর্মীয় পরিষদ।
জানা গেছে, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে আত্মগোপনে থাকার সময় খামেনি তিনজন সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম নির্ধারণ করে গেছেন। তারা হলেন — বিচার বিভাগের বর্তমান প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই, খামেনির দপ্তরপ্রধান আলী আসগর হেজাজি এবং সংস্কারপন্থি ধারার ধর্মীয় নেতা ও ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি। এছাড়া খামেনিপুত্র মোজতবা খামেনির নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে, তবে খামেনি নিজে নেতৃত্বকে বংশানুক্রমিক করতে চাননি বলে জানা গেছে।
হামলার আগে খামেনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। তিনি কার্যত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে পাশ কাটিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছিলেন। যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব কাঠামোতে আলী আসগর হেজাজি, মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও ইয়াহিয়া রহিম সাফাভিকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আগেই বলেছিলেন, "আমাদের কিছু নেতা হারালেও সেটি বড় সমস্যা নয়, আত্মরক্ষায় আমাদের কোনো সীমা নেই।"
বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষজ্ঞ পরিষদের দ্রুত বৈঠক ডাকা হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতার ঘোষণা আসতে পারে। তবে চলমান সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন