ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কৌশলে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের ধোঁয়াশা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কৌশলে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের ধোঁয়াশা

উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি ৫০টি পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন লঞ্চার মোতায়েন করায় এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. রবার্ট কেলি উল্লেখ করেছেন, কিম জং উনের দ্বিমুখী নীতি—একদিকে তার একচ্ছত্র ক্ষমতা রক্ষা করা, অন্যদিকে যুদ্ধের ময়দানে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার—বিশ্বশান্তির জন্য বিশেষ ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিম জং উনের শাসনব্যবস্থা মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক কাল্টের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। পারমাণবিক অস্ত্রের চূড়ান্ত ব্যবহার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কেবল শীর্ষ নেতার হাতে থাকে। তবে যুদ্ধের ময়দান অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। যদি যুক্তরাষ্ট্র বা দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনার কারণে কিম ফ্রন্টলাইন কমান্ডারদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিতে বাধ্য হতে পারেন। এই বিকেন্দ্রীকরণই মূল বিপদের সূত্রপাত হতে পারে, কারণ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের হাতে এই ধরনের বিধ্বংসী অস্ত্র থাকলে তা অনিচ্ছাকৃত পারমাণবিক সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে।

উত্তর কোরিয়া এবং পাকিস্তানসহ কিছু দেশ তাদের চেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মোকাবিলায় পারমাণবিক অস্ত্রকে কেবল প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে নয়, বরং যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে। উত্তর কোরিয়া এখন পারমাণবিক ভাণ্ডারকে প্রচলিত কামানের মতো সাধারণ অস্ত্রে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে। তবে দুর্নীতিগ্রস্ত ও কঠোর নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রে এই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ কিমের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

অন্তিম প্রশ্ন হলো—কিম জং উন কি তার একচ্ছত্র ক্ষমতা ধরে রাখবেন নাকি যুদ্ধের নেশায় জেনারেলদের হাতে ‘বোতামের নিয়ন্ত্রণ’ ছেড়ে দেবেন। এই অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কৌশলে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের ধোঁয়াশা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি ৫০টি পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন লঞ্চার মোতায়েন করায় এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. রবার্ট কেলি উল্লেখ করেছেন, কিম জং উনের দ্বিমুখী নীতি—একদিকে তার একচ্ছত্র ক্ষমতা রক্ষা করা, অন্যদিকে যুদ্ধের ময়দানে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার—বিশ্বশান্তির জন্য বিশেষ ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিম জং উনের শাসনব্যবস্থা মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক কাল্টের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। পারমাণবিক অস্ত্রের চূড়ান্ত ব্যবহার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কেবল শীর্ষ নেতার হাতে থাকে। তবে যুদ্ধের ময়দান অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। যদি যুক্তরাষ্ট্র বা দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনার কারণে কিম ফ্রন্টলাইন কমান্ডারদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিতে বাধ্য হতে পারেন। এই বিকেন্দ্রীকরণই মূল বিপদের সূত্রপাত হতে পারে, কারণ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের হাতে এই ধরনের বিধ্বংসী অস্ত্র থাকলে তা অনিচ্ছাকৃত পারমাণবিক সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে।

উত্তর কোরিয়া এবং পাকিস্তানসহ কিছু দেশ তাদের চেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মোকাবিলায় পারমাণবিক অস্ত্রকে কেবল প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে নয়, বরং যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে। উত্তর কোরিয়া এখন পারমাণবিক ভাণ্ডারকে প্রচলিত কামানের মতো সাধারণ অস্ত্রে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে। তবে দুর্নীতিগ্রস্ত ও কঠোর নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রে এই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ কিমের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

অন্তিম প্রশ্ন হলো—কিম জং উন কি তার একচ্ছত্র ক্ষমতা ধরে রাখবেন নাকি যুদ্ধের নেশায় জেনারেলদের হাতে ‘বোতামের নিয়ন্ত্রণ’ ছেড়ে দেবেন। এই অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ