কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর গ্রামে অবস্থিত শাহ মাহমুদ মসজিদ ও এর পাশে ‘বালাখানা’ ভবনটি মোগল যুগের স্থাপত্যরীতির এক অনন্য নিদর্শন। মোগল সুবেদার শায়েস্তা খানের আমলে ১৬৬৪ সালে নির্মিত এই মসজিদটি স্থানীয় শিল্পশৈলী ও মোগল স্থাপত্যের অপূর্ব সমন্বয় প্রদর্শন করে।
ইতিহাসবোধে ঢাকা শহর ১৬১০ সালে ইসলাম খানের আগমনের পর প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে বিকাশ লাভ করে। মোগল শাসকদের তৎপরতা ও মানবকেন্দ্রিক পরিকল্পনায় ঢাকা শহর ১৭ শতকে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে পূর্ব ভারতের প্রধান শহরে পরিণত হয়।
শাহ মাহমুদ মসজিদটি এক গম্বুজের বর্গাকৃতির এবং প্রতিটি বাহু ৩২ ফুট দীর্ঘ। চার কোণে অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ স্থাপন করা হয়েছে, এবং উপরে বৃহৎ গম্বুজটি স্থাপত্যের গাম্ভীর্য বৃদ্ধি করেছে। পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মেহরাব—মাঝেরটি বড়, পাশে দুটি ছোট—যেখানে টেরাকোটার ধনুকাকৃতি নকশা, লতাপাতা ও ফুলের অলংকরণ শোভা পেয়েছে। পূর্ব দেয়ালে তিনটি দরজা রয়েছে, মাঝেরটি তুলনামূলক বড়।
মসজিদের চারপাশে ছয়টি সরু মিনার এবং পোড়ামাটির কারুকাজ ও সুলতানি প্রভাবিত নকশা এটি অনন্য মর্যাদা দিয়েছে। চূড়ার নকশায় ফতেহপুর সিক্রি, আগ্রা ও দিল্লির মোগল স্থাপত্যের সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। সামনে খোলা প্রাঙ্গণ ও বেষ্টনী প্রাচীরের সঙ্গে দোচালা আকৃতির ‘বালাখানা’ ভবন মূল প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
দুর্ভাগ্যবশত, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মসজিদটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপনাটি অক্ষত রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে যথাযথ সংস্কার খুবই জরুরি।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর গ্রামে অবস্থিত শাহ মাহমুদ মসজিদ ও এর পাশে ‘বালাখানা’ ভবনটি মোগল যুগের স্থাপত্যরীতির এক অনন্য নিদর্শন। মোগল সুবেদার শায়েস্তা খানের আমলে ১৬৬৪ সালে নির্মিত এই মসজিদটি স্থানীয় শিল্পশৈলী ও মোগল স্থাপত্যের অপূর্ব সমন্বয় প্রদর্শন করে।
ইতিহাসবোধে ঢাকা শহর ১৬১০ সালে ইসলাম খানের আগমনের পর প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে বিকাশ লাভ করে। মোগল শাসকদের তৎপরতা ও মানবকেন্দ্রিক পরিকল্পনায় ঢাকা শহর ১৭ শতকে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে পূর্ব ভারতের প্রধান শহরে পরিণত হয়।
শাহ মাহমুদ মসজিদটি এক গম্বুজের বর্গাকৃতির এবং প্রতিটি বাহু ৩২ ফুট দীর্ঘ। চার কোণে অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ স্থাপন করা হয়েছে, এবং উপরে বৃহৎ গম্বুজটি স্থাপত্যের গাম্ভীর্য বৃদ্ধি করেছে। পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মেহরাব—মাঝেরটি বড়, পাশে দুটি ছোট—যেখানে টেরাকোটার ধনুকাকৃতি নকশা, লতাপাতা ও ফুলের অলংকরণ শোভা পেয়েছে। পূর্ব দেয়ালে তিনটি দরজা রয়েছে, মাঝেরটি তুলনামূলক বড়।
মসজিদের চারপাশে ছয়টি সরু মিনার এবং পোড়ামাটির কারুকাজ ও সুলতানি প্রভাবিত নকশা এটি অনন্য মর্যাদা দিয়েছে। চূড়ার নকশায় ফতেহপুর সিক্রি, আগ্রা ও দিল্লির মোগল স্থাপত্যের সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। সামনে খোলা প্রাঙ্গণ ও বেষ্টনী প্রাচীরের সঙ্গে দোচালা আকৃতির ‘বালাখানা’ ভবন মূল প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
দুর্ভাগ্যবশত, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মসজিদটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপনাটি অক্ষত রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে যথাযথ সংস্কার খুবই জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন