ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরানের হাতে যেতে পারে চীনের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সিএম-৩০২, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইরানের হাতে যেতে পারে চীনের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সিএম-৩০২, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের উন্নত প্রযুক্তির সিএম-৩০২ সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তেহরান ও বেইজিংয়ের মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ সংক্রান্ত চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই ক্ষেপণাস্ত্রের মালিক হলে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর আধিপত্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিএম-৩০২ ক্ষেপণাস্ত্রটি চীনের ওয়াইজে-১২ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের রফতানি সংস্করণ। এটি কঠিন-জ্বালানি চালিত সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের খুব কাছ দিয়ে উচ্চগতিতে উড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, সিএম-৩০২ শব্দের গতির তিন গুণ গতিতে (ম্যাক ৩) চলতে পারে এবং প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দাবি করা হচ্ছে, এটি প্রায় ৯৫ শতাংশ লক্ষ্যভেদে সক্ষম এবং একক আঘাতে পাঁচ হাজার টনের বড় যুদ্ধজাহাজ বা ডেস্ট্রয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বা ডুবিয়ে দিতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূমি, আকাশ এবং সমুদ্র—এই তিন ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকেই নিক্ষেপ করা সম্ভব।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র মূলত বিমানবাহী রণতরী ও এজিস প্রযুক্তিসম্পন্ন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। ইরান এই অস্ত্র পেলে হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচলকারী পশ্চিমা যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির দ্রুত আধুনিকায়ন করেছে এবং সিএম-৩০২-এর মতো তুলনামূলক কম খরচে কার্যকর সুপারসনিক অস্ত্র বৈশ্বিক অস্ত্রবাজারে দেশটির প্রভাব আরও শক্তিশালী করছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইরানের হাতে যেতে পারে চীনের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সিএম-৩০২, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের উন্নত প্রযুক্তির সিএম-৩০২ সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তেহরান ও বেইজিংয়ের মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ সংক্রান্ত চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই ক্ষেপণাস্ত্রের মালিক হলে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর আধিপত্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিএম-৩০২ ক্ষেপণাস্ত্রটি চীনের ওয়াইজে-১২ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের রফতানি সংস্করণ। এটি কঠিন-জ্বালানি চালিত সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের খুব কাছ দিয়ে উচ্চগতিতে উড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, সিএম-৩০২ শব্দের গতির তিন গুণ গতিতে (ম্যাক ৩) চলতে পারে এবং প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দাবি করা হচ্ছে, এটি প্রায় ৯৫ শতাংশ লক্ষ্যভেদে সক্ষম এবং একক আঘাতে পাঁচ হাজার টনের বড় যুদ্ধজাহাজ বা ডেস্ট্রয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বা ডুবিয়ে দিতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূমি, আকাশ এবং সমুদ্র—এই তিন ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকেই নিক্ষেপ করা সম্ভব।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র মূলত বিমানবাহী রণতরী ও এজিস প্রযুক্তিসম্পন্ন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। ইরান এই অস্ত্র পেলে হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচলকারী পশ্চিমা যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির দ্রুত আধুনিকায়ন করেছে এবং সিএম-৩০২-এর মতো তুলনামূলক কম খরচে কার্যকর সুপারসনিক অস্ত্র বৈশ্বিক অস্ত্রবাজারে দেশটির প্রভাব আরও শক্তিশালী করছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ