ওয়াশিংটন, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে যেসব দেশ চুক্তি নিয়ে 'টালবাহানা' করবে, তাদের বিরুদ্ধে আরও উচ্চহারে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, যেসব দেশ এই আদালতের রায়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পূর্বে করা বাণিজ্য প্রতিশ্রুতি থেকে পিছু হটার চেষ্টা করবে, তাদের ওপর সম্প্রতি নির্ধারিত শুল্কের চেয়েও বেশি হারে শুল্ক বসানো হবে। পোস্টের শেষে তিনি সতর্কবাণী হিসেবে লিখেছেন, 'ক্রেতা সাবধান।'
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে আরোপিত ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে রায় দেয়। আদালত জানায়, ওই আইনে প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের আমদানি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
এই রায়ের পর বিভিন্ন দেশ তাদের অবস্থান পর্যালোচনা করতে শুরু করে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, গ্রীষ্মে সম্পাদিত একটি চুক্তির অনুমোদন তারা স্থগিত রাখবে। একইভাবে ভারতও চুক্তি চূড়ান্তকরণের জন্য নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির সভাপতি বার্নড ল্যাঞ্জ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন আগের তুলনায় আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাজ্যও এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। দেশটির ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ ঘোষণা যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে তা তিনি স্বীকার করেন এবং যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও জনসাধারণকে রক্ষায় সব ধরনের বিকল্প নিয়ে ভাবা হচ্ছে।
এদিকে আদালতের রায়ের পরেও শুল্কনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এরই মধ্যে ট্রাম্প বিকল্প আইনি পথ ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ অব্যাহত রেখেছেন। শুক্রবার তিনি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত '১২২ ধারা' প্রয়োগ করেন, যা প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়। পাশাপাশি তিনি কর্মকর্তাদের '৩০১ ধারা'র অধীনে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন, যে আইনটি 'অন্যায্য' বাণিজ্য সম্পর্কের বিপরীতে শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয়।
এই নতুন শুল্ক, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির মতো পণ্যে আগে থেকে আরোপিত শুল্কের পাশাপাশি কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার রোববার এবিসি নিউজকে বলেন, শুল্ক কার্যক্রম পুনর্গঠন করে চালিয়ে যাওয়ার পথ তারা খুঁজে পেয়েছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ওয়াশিংটন, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে যেসব দেশ চুক্তি নিয়ে 'টালবাহানা' করবে, তাদের বিরুদ্ধে আরও উচ্চহারে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, যেসব দেশ এই আদালতের রায়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পূর্বে করা বাণিজ্য প্রতিশ্রুতি থেকে পিছু হটার চেষ্টা করবে, তাদের ওপর সম্প্রতি নির্ধারিত শুল্কের চেয়েও বেশি হারে শুল্ক বসানো হবে। পোস্টের শেষে তিনি সতর্কবাণী হিসেবে লিখেছেন, 'ক্রেতা সাবধান।'
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে আরোপিত ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে রায় দেয়। আদালত জানায়, ওই আইনে প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের আমদানি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
এই রায়ের পর বিভিন্ন দেশ তাদের অবস্থান পর্যালোচনা করতে শুরু করে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, গ্রীষ্মে সম্পাদিত একটি চুক্তির অনুমোদন তারা স্থগিত রাখবে। একইভাবে ভারতও চুক্তি চূড়ান্তকরণের জন্য নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির সভাপতি বার্নড ল্যাঞ্জ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন আগের তুলনায় আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাজ্যও এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। দেশটির ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ ঘোষণা যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে তা তিনি স্বীকার করেন এবং যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও জনসাধারণকে রক্ষায় সব ধরনের বিকল্প নিয়ে ভাবা হচ্ছে।
এদিকে আদালতের রায়ের পরেও শুল্কনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এরই মধ্যে ট্রাম্প বিকল্প আইনি পথ ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ অব্যাহত রেখেছেন। শুক্রবার তিনি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত '১২২ ধারা' প্রয়োগ করেন, যা প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়। পাশাপাশি তিনি কর্মকর্তাদের '৩০১ ধারা'র অধীনে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন, যে আইনটি 'অন্যায্য' বাণিজ্য সম্পর্কের বিপরীতে শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয়।
এই নতুন শুল্ক, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির মতো পণ্যে আগে থেকে আরোপিত শুল্কের পাশাপাশি কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার রোববার এবিসি নিউজকে বলেন, শুল্ক কার্যক্রম পুনর্গঠন করে চালিয়ে যাওয়ার পথ তারা খুঁজে পেয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন