বাগদাদ, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ইরাকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া ক্রমেই জটিল হয়ে পড়েছে। দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো প্রায় প্রতিদিনই বৈঠকে বসছে, তবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নির্ধারণে তারা মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংকেতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
দেশ রূপান্তর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলীয় নেতারা গোপন বৈঠক করে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিলেও পর্দার আড়ালে অনেক রাজনীতিক স্বীকার করছেন যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্ভবত বাগদাদের বাইরেই নির্ধারিত হচ্ছে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের গতিপথের উপর নির্ভরশীল এক অনিশ্চিত অপেক্ষায় পরিণত হয়েছে।
এই পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি, যিনি স্টেট অব ল' কোয়ালিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর সম্ভাব্য মনোনয়ন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরাকি রাজনৈতিক দলগুলোও এ নিয়ে বিভক্ত। ফলে বিষয়টি বাগদাদে ভবিষ্যৎ ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে মার্কিন হিসাব-নিকাশের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ আল-ইয়াসিরির মতে, আঞ্চলিক কৌশলগত পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের রূপান্তর—এই দুই মাধ্যমে বহিরাগত শক্তিগুলো বাগদাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে চাপ তৈরি করছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য হলো ইরাকে ইরানের প্রভাবের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরাপত্তা-সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর থেকে ইরাকে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কখনোই বিদেশি প্রভাবমুক্ত ছিল না। তবে এবারের অচলাবস্থার বিশেষত্ব হলো—ওয়াশিংটনের প্রভাব আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান এবং শিয়া রাজনৈতিক বলয়ে ঐকমত্য তৈরিতে তেহরানের সক্ষমতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্যমতে, ইরাকের মাটিতে দুই বৃহৎ শক্তির এই পরোক্ষ দ্বন্দ্ব দেশটির স্বাধীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ণ করছে, এবং ইরাকের পরবর্তী সরকার গঠন কার্যত বাগদাদের নয়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কের গতিপথের উপর নির্ভর করছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাগদাদ, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ইরাকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া ক্রমেই জটিল হয়ে পড়েছে। দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো প্রায় প্রতিদিনই বৈঠকে বসছে, তবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নির্ধারণে তারা মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংকেতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
দেশ রূপান্তর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলীয় নেতারা গোপন বৈঠক করে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিলেও পর্দার আড়ালে অনেক রাজনীতিক স্বীকার করছেন যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্ভবত বাগদাদের বাইরেই নির্ধারিত হচ্ছে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের গতিপথের উপর নির্ভরশীল এক অনিশ্চিত অপেক্ষায় পরিণত হয়েছে।
এই পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি, যিনি স্টেট অব ল' কোয়ালিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর সম্ভাব্য মনোনয়ন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরাকি রাজনৈতিক দলগুলোও এ নিয়ে বিভক্ত। ফলে বিষয়টি বাগদাদে ভবিষ্যৎ ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে মার্কিন হিসাব-নিকাশের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ আল-ইয়াসিরির মতে, আঞ্চলিক কৌশলগত পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের রূপান্তর—এই দুই মাধ্যমে বহিরাগত শক্তিগুলো বাগদাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে চাপ তৈরি করছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য হলো ইরাকে ইরানের প্রভাবের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরাপত্তা-সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর থেকে ইরাকে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কখনোই বিদেশি প্রভাবমুক্ত ছিল না। তবে এবারের অচলাবস্থার বিশেষত্ব হলো—ওয়াশিংটনের প্রভাব আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান এবং শিয়া রাজনৈতিক বলয়ে ঐকমত্য তৈরিতে তেহরানের সক্ষমতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্যমতে, ইরাকের মাটিতে দুই বৃহৎ শক্তির এই পরোক্ষ দ্বন্দ্ব দেশটির স্বাধীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ণ করছে, এবং ইরাকের পরবর্তী সরকার গঠন কার্যত বাগদাদের নয়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কের গতিপথের উপর নির্ভর করছে।

আপনার মতামত লিখুন