ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অতিনির্ভরতায় হুমকিতে মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অতিনির্ভরতায় হুমকিতে মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার মানুষের সৃজনশীলতা ও স্বাধীন চিন্তাশক্তিকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ কর্মকার।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দৈনিক আমার দেশ-এ প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।

লেখক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এখন প্রযুক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। স্কুলের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, অফিসের কর্মচারী থেকে ফ্রিল্যান্সার—সকলেই কোনো না কোনোভাবে এআইয়ের সুবিধা নিচ্ছেন। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও এখন ঘরে বসেই বিশ্বমানের তথ্য পাচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে প্রযুক্তির বড় অর্জন। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালে রয়েছে গভীর ঝুঁকিও।

শুভ কর্মকারের মতে, এআই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পরিপাটি সমাধান দিতে পারলেও এটি গভীর মানবিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম নয়। অতিরিক্ত নির্ভরতায় মানুষের কল্পনাশক্তি ও স্বাধীন চিন্তার চর্চা কমছে এবং নিজস্বতা বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও সতর্ক করেন যে, এআই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তা কখনো কখনো অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে। এর ফলে সাইবার অপরাধ ও ডেটা হ্যাকিংয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত স্বাস্থ্য, আইনি ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর করা বিপজ্জনক হতে পারে।

লেখকের পরামর্শ, এআইকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত—বিকল্প হিসেবে নয়। শিক্ষায় এআই দিকনির্দেশনা দিতে পারে, তবে নিজের ভাষা ও ভাবনার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি মনে করেন, যে সমাজ নিজের মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়, সেই সমাজই টিকে থাকে এবং এগিয়ে যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে মানবিক বুদ্ধিমত্তাকে জাগ্রত রাখাই হওয়া উচিত সকলের প্রধান লক্ষ্য।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অতিনির্ভরতায় হুমকিতে মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার মানুষের সৃজনশীলতা ও স্বাধীন চিন্তাশক্তিকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ কর্মকার।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দৈনিক আমার দেশ-এ প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।

লেখক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এখন প্রযুক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। স্কুলের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, অফিসের কর্মচারী থেকে ফ্রিল্যান্সার—সকলেই কোনো না কোনোভাবে এআইয়ের সুবিধা নিচ্ছেন। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও এখন ঘরে বসেই বিশ্বমানের তথ্য পাচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে প্রযুক্তির বড় অর্জন। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালে রয়েছে গভীর ঝুঁকিও।

শুভ কর্মকারের মতে, এআই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পরিপাটি সমাধান দিতে পারলেও এটি গভীর মানবিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম নয়। অতিরিক্ত নির্ভরতায় মানুষের কল্পনাশক্তি ও স্বাধীন চিন্তার চর্চা কমছে এবং নিজস্বতা বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও সতর্ক করেন যে, এআই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তা কখনো কখনো অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে। এর ফলে সাইবার অপরাধ ও ডেটা হ্যাকিংয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত স্বাস্থ্য, আইনি ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর করা বিপজ্জনক হতে পারে।

লেখকের পরামর্শ, এআইকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত—বিকল্প হিসেবে নয়। শিক্ষায় এআই দিকনির্দেশনা দিতে পারে, তবে নিজের ভাষা ও ভাবনার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি মনে করেন, যে সমাজ নিজের মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়, সেই সমাজই টিকে থাকে এবং এগিয়ে যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে মানবিক বুদ্ধিমত্তাকে জাগ্রত রাখাই হওয়া উচিত সকলের প্রধান লক্ষ্য।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ