কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে এক পুলিশ কর্মকর্তার ‘রমজানে কোনো টিভি বা ক্যারম চলবে না’ এমন নির্দেশনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কুষ্টিয়ায় পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি বাজারে টেলিভিশন দেখা এবং ক্যারম খেলার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার উপস্থিতিতেই গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার পাটিকাবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল আজম এই নির্দেশনা দেন। তবে জেলা পুলিশ ও থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ দেওয়া হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যাম্প ইনচার্জ মসিউল আজম এক চা দোকানির দিকে আঙুল তুলে রাগান্বিত স্বরে বলছেন, ‘কেন ক্যারম চলছে? আমি সেদিন বাজার কমিটিকে ডেকে বলে গেছি না, তারাবির এক মাস কোনো ক্যারম, কোনো টিভি চলবে না।’ এরপর তিনি দ্রুত ক্যারম বোর্ডের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় পাশে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, ‘রমজান মাস ইবাদতের মাস। যা-ই করবেন, নামাজের সময় যেন এসব না করেন।’
এই ঘটনার পর শনিবার রাত ৮টার দিকে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায় আতঙ্কের ছাপ। বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে, আর যারা খোলা রেখেছেন তারাও সাটার অর্ধেক নামিয়ে রেখেছেন। একটি দোকানে টেলিভিশন চললেও বন্ধ ছিল ক্যারম খেলা। ভয়ে দোকানিরা এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।
স্থানীয় মেম্বার আবুল কাশেম এই নির্দেশনার সমালোচনা করে বলেন, ‘হঠাৎ এভাবে সব বন্ধ করে দেওয়া ঠিক না। তরুণদের বিনোদনের প্রয়োজন আছে। তবে বাজি ধরে বা টাকা দিয়ে খেলা অবশ্যই অনুচিত।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মসিউল আজম দাবি করেন, এটি ইসলামের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য বলা হয়েছে এবং তিনি ওপর মহলের নির্দেশেই কথা বলেছেন। তবে তার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা। তিনি জানান, দোকানিদের বিষয়ে এমন কোনো প্রশাসনিক নির্দেশনা ছিল না।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টিকে ব্যক্তিগত অতিউৎসাহ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি কোনো পুলিশি নির্দেশনা নয়। রোজার দিনে দোকান খোলা রাখা বা বিনোদন সম্পূর্ণ মানুষের অনুভূতির বিষয়, আইনের নয়। এ জন্য কাউকে আইনি শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।’
প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যের পর স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন জেগেছে, কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশ ছাড়াই পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে জনসমক্ষে এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে এক পুলিশ কর্মকর্তার ‘রমজানে কোনো টিভি বা ক্যারম চলবে না’ এমন নির্দেশনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কুষ্টিয়ায় পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি বাজারে টেলিভিশন দেখা এবং ক্যারম খেলার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার উপস্থিতিতেই গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার পাটিকাবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল আজম এই নির্দেশনা দেন। তবে জেলা পুলিশ ও থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ দেওয়া হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যাম্প ইনচার্জ মসিউল আজম এক চা দোকানির দিকে আঙুল তুলে রাগান্বিত স্বরে বলছেন, ‘কেন ক্যারম চলছে? আমি সেদিন বাজার কমিটিকে ডেকে বলে গেছি না, তারাবির এক মাস কোনো ক্যারম, কোনো টিভি চলবে না।’ এরপর তিনি দ্রুত ক্যারম বোর্ডের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় পাশে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, ‘রমজান মাস ইবাদতের মাস। যা-ই করবেন, নামাজের সময় যেন এসব না করেন।’
এই ঘটনার পর শনিবার রাত ৮টার দিকে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায় আতঙ্কের ছাপ। বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে, আর যারা খোলা রেখেছেন তারাও সাটার অর্ধেক নামিয়ে রেখেছেন। একটি দোকানে টেলিভিশন চললেও বন্ধ ছিল ক্যারম খেলা। ভয়ে দোকানিরা এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।
স্থানীয় মেম্বার আবুল কাশেম এই নির্দেশনার সমালোচনা করে বলেন, ‘হঠাৎ এভাবে সব বন্ধ করে দেওয়া ঠিক না। তরুণদের বিনোদনের প্রয়োজন আছে। তবে বাজি ধরে বা টাকা দিয়ে খেলা অবশ্যই অনুচিত।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মসিউল আজম দাবি করেন, এটি ইসলামের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য বলা হয়েছে এবং তিনি ওপর মহলের নির্দেশেই কথা বলেছেন। তবে তার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা। তিনি জানান, দোকানিদের বিষয়ে এমন কোনো প্রশাসনিক নির্দেশনা ছিল না।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টিকে ব্যক্তিগত অতিউৎসাহ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি কোনো পুলিশি নির্দেশনা নয়। রোজার দিনে দোকান খোলা রাখা বা বিনোদন সম্পূর্ণ মানুষের অনুভূতির বিষয়, আইনের নয়। এ জন্য কাউকে আইনি শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।’
প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যের পর স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন জেগেছে, কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশ ছাড়াই পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে জনসমক্ষে এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন।

আপনার মতামত লিখুন