ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

গ্রিনল্যান্ডে ভাসমান হাসপাতাল জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা ট্রাম্পের, কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গ্রিনল্যান্ডে ভাসমান হাসপাতাল জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা ট্রাম্পের, কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে একটি ভাসমান হাসপাতাল জাহাজ প্রেরণের ঘোষণা দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিস্ময় ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির সহায়তায় গ্রিনল্যান্ডে একটি বড় হাসপাতাল জাহাজ পাঠানো হবে। পোস্টের সঙ্গে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর হাসপাতাল জাহাজ ইউএসএস মার্সির একটি ছবিও যুক্ত করেন। ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডের বহু অসুস্থ বাসিন্দা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত, তাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এই ঘোষণা কূটনৈতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। কারণ গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যা নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ডেনমার্ক সরকার বা গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখযোগ্য যে, গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। ল্যান্ড্রি এই হাসপাতাল জাহাজ পাঠানোর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।

গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ বা ক্রয়ের বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন, যা ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার করে। অনেক বিশ্লেষকের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে ইউএসএস মার্সি ও ইউএসএস কমফোর্ট নামে দুটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল জাহাজ রয়েছে, যেগুলো সাধারণত মানবিক বিপর্যয় বা সংঘাতকালীন পরিস্থিতিতে মোতায়েন করা হয়। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস বেস নামে একটি সামরিক ঘাঁটিও বিদ্যমান রয়েছে।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আদৌ মানবিক সহায়তার উদ্দেশ্যে, নাকি গ্রিনল্যান্ডে ওয়াশিংটনের কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের পথ প্রশস্ত করার অংশ—এই প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


গ্রিনল্যান্ডে ভাসমান হাসপাতাল জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা ট্রাম্পের, কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে একটি ভাসমান হাসপাতাল জাহাজ প্রেরণের ঘোষণা দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিস্ময় ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির সহায়তায় গ্রিনল্যান্ডে একটি বড় হাসপাতাল জাহাজ পাঠানো হবে। পোস্টের সঙ্গে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর হাসপাতাল জাহাজ ইউএসএস মার্সির একটি ছবিও যুক্ত করেন। ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডের বহু অসুস্থ বাসিন্দা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত, তাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এই ঘোষণা কূটনৈতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। কারণ গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যা নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ডেনমার্ক সরকার বা গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখযোগ্য যে, গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। ল্যান্ড্রি এই হাসপাতাল জাহাজ পাঠানোর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।

গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ বা ক্রয়ের বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন, যা ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার করে। অনেক বিশ্লেষকের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে ইউএসএস মার্সি ও ইউএসএস কমফোর্ট নামে দুটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল জাহাজ রয়েছে, যেগুলো সাধারণত মানবিক বিপর্যয় বা সংঘাতকালীন পরিস্থিতিতে মোতায়েন করা হয়। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস বেস নামে একটি সামরিক ঘাঁটিও বিদ্যমান রয়েছে।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আদৌ মানবিক সহায়তার উদ্দেশ্যে, নাকি গ্রিনল্যান্ডে ওয়াশিংটনের কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের পথ প্রশস্ত করার অংশ—এই প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ