ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের বিমান হামলার পর আফগান সরকারের জরুরি বৈঠক: পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পাকিস্তানের বিমান হামলার পর আফগান সরকারের জরুরি বৈঠক: পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলার পর রাজধানী কাবুলে উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডেকেছে তালেবান সরকার। পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে উপযুক্ত সময়ে কড়া জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আফগান কর্তৃপক্ষ।

কাবুল: রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানের সাহায্যে হামলা চালায়। এই ঘটনার পরপরই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসেন তালেবান সরকারের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও নীতিনির্ধারক নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে পাকিস্তানের এই হামলার ধরন বিশ্লেষণ করে পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আফগান সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “কাবুলের এই হামলার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কখন এবং কীভাবে এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তালেবান নেতৃবৃন্দ নির্ধারণ করবেন।”

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগান সরকার মনে করছে পাকিস্তান এই হামলার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করেছে। উদ্ভূত এই সংকটজনক পরিস্থিতির বিষয়ে ইতোমধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে আফগানিস্তান।

পাকিস্তানের দাবি, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের আস্তানা লক্ষ্য করে এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানো হয়েছে। তবে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী সরাসরি বেসামরিক বসতি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ডজনখানেক সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। তবে সম্প্রতি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার জন্য আফগান ভূখণ্ডকে দায়ী করে আসছে ইসলামাবাদ। আজকের এই বিমান হামলা দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার ভঙ্গুর সম্পর্ককে আবারও যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


পাকিস্তানের বিমান হামলার পর আফগান সরকারের জরুরি বৈঠক: পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলার পর রাজধানী কাবুলে উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডেকেছে তালেবান সরকার। পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে উপযুক্ত সময়ে কড়া জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আফগান কর্তৃপক্ষ।

কাবুল: রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানের সাহায্যে হামলা চালায়। এই ঘটনার পরপরই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসেন তালেবান সরকারের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও নীতিনির্ধারক নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে পাকিস্তানের এই হামলার ধরন বিশ্লেষণ করে পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আফগান সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “কাবুলের এই হামলার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কখন এবং কীভাবে এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তালেবান নেতৃবৃন্দ নির্ধারণ করবেন।”

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগান সরকার মনে করছে পাকিস্তান এই হামলার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করেছে। উদ্ভূত এই সংকটজনক পরিস্থিতির বিষয়ে ইতোমধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে আফগানিস্তান।

পাকিস্তানের দাবি, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের আস্তানা লক্ষ্য করে এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানো হয়েছে। তবে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী সরাসরি বেসামরিক বসতি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ডজনখানেক সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। তবে সম্প্রতি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার জন্য আফগান ভূখণ্ডকে দায়ী করে আসছে ইসলামাবাদ। আজকের এই বিমান হামলা দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার ভঙ্গুর সম্পর্ককে আবারও যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ