মাত্র ২ মিলিমিটার পুরুত্বের এক টুকরো কাঁচে প্রায় ২০ লাখ বই বা ৫ হাজার ফোর-কে (4K) মুভি সংরক্ষণের এক অবিশ্বাস্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা, যা টিকে থাকবে অন্তত ১০ হাজার বছর।
লন্ডন: মানবসভ্যতার হাজার বছরের জ্ঞান ও সংস্কৃতি এখন হাতের তালুর সমান এক টুকরো কাঁচে অক্ষয় করে রাখা সম্ভব হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিপেনডেন্ট’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইক্রোসফটের ‘প্রজেক্ট সিলিকা’ প্রকল্পের আওতায় একদল বিজ্ঞানী তথ্য সংরক্ষণের এই অভাবনীয় পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ‘নেচার’-এ ‘লেজার রাইটিং ইন গ্লাস ফর ডেন্স, ফাস্ট অ্যান্ড এফিশিয়েন্ট আর্কাইভাল ডেটা স্টোরেজ’ শিরোনামে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
প্রযুক্তির নেপথ্যে ‘ভক্সেল’ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিশেষ এক ধরনের লেজার ব্যবহার করে ১২ বর্গ সেন্টিমিটার আয়তন ও ২ মিলিমিটার পুরুত্বের এই কাঁচের ভেতরে তথ্য খোদাই করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় লেজারটি কাঁচের অভ্যন্তরে ‘ভক্সেল’ (Voxel) নামক ত্রিমাত্রিক পিক্সেল তৈরি করে। মাত্র ছোট এক টুকরো সিলিকা কাঁচে ৪.৮৪ টেরাবাইট তথ্য জমা রাখা সম্ভব, যা বর্তমানের যেকোনো হার্ড ড্রাইভের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি টেকসই ও ধারণক্ষমতাসম্পন্ন।
অক্ষয় স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা গবেষণায় দেখা গেছে, এই কাঁচের স্টোরেজ ২৯০° সেলসিয়াস চরম তাপমাত্রাতেও প্রায় ১০ হাজার বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে সক্ষম। সাধারণ কক্ষ তাপমাত্রায় এর স্থায়িত্ব আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উচ্চ তাপ ও সময়ের বিপরীতে এটি অজেয় হলেও, জোরালো আঘাত বা রাসায়নিক ক্ষয়ের কারণে কাঁচটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সভ্যতার নতুন মাইলফলক গবেষক ফেং চেন ও বো উ এই আবিষ্কারকে প্রাচীন হাড়ের লিপি বা মধ্যযুগীয় পার্চমেন্টের আধুনিক ও উন্নত সংস্করণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, যেভাবে কাগজ বা ছাপাখানা মানবসভ্যতার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, এই প্রযুক্তিও জ্ঞান সংরক্ষণের ইতিহাসে ঠিক তেমনই এক আমূল পরিবর্তন আনবে।
ভবিষ্যতে বড় পরিসরে এই প্রযুক্তির বাস্তবায়ন করা গেলে মানবজাতির হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতি একটি ক্ষুদ্র কাঁচের টুকরোয় পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত থাকবে। এটি আধুনিক হার্ড ড্রাইভের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তথ্য সংরক্ষণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মাত্র ২ মিলিমিটার পুরুত্বের এক টুকরো কাঁচে প্রায় ২০ লাখ বই বা ৫ হাজার ফোর-কে (4K) মুভি সংরক্ষণের এক অবিশ্বাস্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা, যা টিকে থাকবে অন্তত ১০ হাজার বছর।
লন্ডন: মানবসভ্যতার হাজার বছরের জ্ঞান ও সংস্কৃতি এখন হাতের তালুর সমান এক টুকরো কাঁচে অক্ষয় করে রাখা সম্ভব হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিপেনডেন্ট’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইক্রোসফটের ‘প্রজেক্ট সিলিকা’ প্রকল্পের আওতায় একদল বিজ্ঞানী তথ্য সংরক্ষণের এই অভাবনীয় পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ‘নেচার’-এ ‘লেজার রাইটিং ইন গ্লাস ফর ডেন্স, ফাস্ট অ্যান্ড এফিশিয়েন্ট আর্কাইভাল ডেটা স্টোরেজ’ শিরোনামে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
প্রযুক্তির নেপথ্যে ‘ভক্সেল’ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিশেষ এক ধরনের লেজার ব্যবহার করে ১২ বর্গ সেন্টিমিটার আয়তন ও ২ মিলিমিটার পুরুত্বের এই কাঁচের ভেতরে তথ্য খোদাই করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় লেজারটি কাঁচের অভ্যন্তরে ‘ভক্সেল’ (Voxel) নামক ত্রিমাত্রিক পিক্সেল তৈরি করে। মাত্র ছোট এক টুকরো সিলিকা কাঁচে ৪.৮৪ টেরাবাইট তথ্য জমা রাখা সম্ভব, যা বর্তমানের যেকোনো হার্ড ড্রাইভের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি টেকসই ও ধারণক্ষমতাসম্পন্ন।
অক্ষয় স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা গবেষণায় দেখা গেছে, এই কাঁচের স্টোরেজ ২৯০° সেলসিয়াস চরম তাপমাত্রাতেও প্রায় ১০ হাজার বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে সক্ষম। সাধারণ কক্ষ তাপমাত্রায় এর স্থায়িত্ব আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উচ্চ তাপ ও সময়ের বিপরীতে এটি অজেয় হলেও, জোরালো আঘাত বা রাসায়নিক ক্ষয়ের কারণে কাঁচটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সভ্যতার নতুন মাইলফলক গবেষক ফেং চেন ও বো উ এই আবিষ্কারকে প্রাচীন হাড়ের লিপি বা মধ্যযুগীয় পার্চমেন্টের আধুনিক ও উন্নত সংস্করণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, যেভাবে কাগজ বা ছাপাখানা মানবসভ্যতার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, এই প্রযুক্তিও জ্ঞান সংরক্ষণের ইতিহাসে ঠিক তেমনই এক আমূল পরিবর্তন আনবে।
ভবিষ্যতে বড় পরিসরে এই প্রযুক্তির বাস্তবায়ন করা গেলে মানবজাতির হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতি একটি ক্ষুদ্র কাঁচের টুকরোয় পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত থাকবে। এটি আধুনিক হার্ড ড্রাইভের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তথ্য সংরক্ষণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

আপনার মতামত লিখুন