ইরানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাজধানী তেহরানের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং শান্তিপূর্ণ মিছিল আয়োজন করেন।
শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ক্যাম্পাসে শত শত শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীরা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি তোলেন। একই সময়ে নিকটবর্তী এলাকায় সরকারপন্থীদের একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া শাহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমিরকাবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতেও শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদসহ দেশের আরও কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং রোববারও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারের কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে গত মাসে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে রূপ নেয়, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ওই দফার আন্দোলনে অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন নিহত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেছে, যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি বলে জানিয়েছে।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, পারমাণবিক আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা বা সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ করলেও তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রবাসী ইরানি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। কেউ সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান জানালেও অন্যরা বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাজধানী তেহরানের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং শান্তিপূর্ণ মিছিল আয়োজন করেন।
শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ক্যাম্পাসে শত শত শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীরা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি তোলেন। একই সময়ে নিকটবর্তী এলাকায় সরকারপন্থীদের একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া শাহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমিরকাবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতেও শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদসহ দেশের আরও কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং রোববারও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারের কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে গত মাসে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে রূপ নেয়, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ওই দফার আন্দোলনে অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন নিহত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেছে, যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি বলে জানিয়েছে।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, পারমাণবিক আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা বা সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ করলেও তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রবাসী ইরানি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। কেউ সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান জানালেও অন্যরা বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

আপনার মতামত লিখুন