হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী, তার স্বামী নির্মাতা আদনান আল রাজীব এবং চলচ্চিত্র পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্তের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল অবৈধ বিদেশি মদ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী আটকের পর মামলার বিধান থাকলেও, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক হস্তক্ষেপে কোনো আইনি ব্যবস্থা ছাড়াই তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি গত ১৭ আগস্টের হলেও সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন ব্যাংকক থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের (বিএস-২১৮) একটি ফ্লাইটে মেহজাবীনসহ তিন যাত্রী ঢাকায় অবতরণ করেন। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় কাস্টমস কর্মকর্তাদের তল্লাশিতে তাদের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল অ্যালকোহল উদ্ধার করা হয়।
বিদ্যমান কাস্টমস আইন-২০২৩ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য বিদেশ থেকে অ্যালকোহল বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক আটকের পর মামলার নিয়ম থাকলেও মেহজাবীনের ক্ষেত্রে কেবল পণ্যগুলো জব্দ করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি এই ঘটনায় মেহজাবীনের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মুচলেকানো নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
নথি অনুযায়ী, জব্দ তালিকায় ডি শিফটের এয়ারপোর্ট রেভিনিউ অফিসার (এআরও) মো. মোতাকাব্বির আলীর স্বাক্ষর রয়েছে (রশিদ নং-ডিসিএইচ-ডিই-২০২৫০৮১৫২০)। বর্তমানে সিলেটে কর্মরত এই কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, নিয়ম অনুযায়ী তিনি মালামাল জব্দ করে সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠিয়েছিলেন। এরপর তাদের বিরুদ্ধে কেন মামলা হয়নি বা কীভাবে তারা মুক্তি পেলেন, সে বিষয়ে তিনি অবহিত নন।
এদিকে ঘটনার সময় তিন যাত্রীকে প্রটোকল দিতে আসা অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির দুজন কর্মকর্তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ওই মুচলেকায় তারা উল্লেখ করেছেন যে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তারা প্রটোকল দিতে এসেছিলেন এবং জব্দকৃত পণ্যের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এই চাঞ্চল্যকর বিষয়ে মন্তব্য জানতে মেহজাবীন চৌধুরী, আদনান আল রাজীব ও শঙ্খ দাসগুপ্তের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি। পরবর্তীতে একটি অনুষ্ঠানে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মেহজাবীন চৌধুরী বিষয়টি ব্যক্তিগত উল্লেখ করে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এমন নীরবতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইনের শিথিল প্রয়োগ নিয়ে সাধারণ মহলে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী, তার স্বামী নির্মাতা আদনান আল রাজীব এবং চলচ্চিত্র পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্তের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল অবৈধ বিদেশি মদ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী আটকের পর মামলার বিধান থাকলেও, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক হস্তক্ষেপে কোনো আইনি ব্যবস্থা ছাড়াই তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি গত ১৭ আগস্টের হলেও সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন ব্যাংকক থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের (বিএস-২১৮) একটি ফ্লাইটে মেহজাবীনসহ তিন যাত্রী ঢাকায় অবতরণ করেন। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় কাস্টমস কর্মকর্তাদের তল্লাশিতে তাদের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল অ্যালকোহল উদ্ধার করা হয়।
বিদ্যমান কাস্টমস আইন-২০২৩ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য বিদেশ থেকে অ্যালকোহল বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক আটকের পর মামলার নিয়ম থাকলেও মেহজাবীনের ক্ষেত্রে কেবল পণ্যগুলো জব্দ করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি এই ঘটনায় মেহজাবীনের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মুচলেকানো নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
নথি অনুযায়ী, জব্দ তালিকায় ডি শিফটের এয়ারপোর্ট রেভিনিউ অফিসার (এআরও) মো. মোতাকাব্বির আলীর স্বাক্ষর রয়েছে (রশিদ নং-ডিসিএইচ-ডিই-২০২৫০৮১৫২০)। বর্তমানে সিলেটে কর্মরত এই কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, নিয়ম অনুযায়ী তিনি মালামাল জব্দ করে সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠিয়েছিলেন। এরপর তাদের বিরুদ্ধে কেন মামলা হয়নি বা কীভাবে তারা মুক্তি পেলেন, সে বিষয়ে তিনি অবহিত নন।
এদিকে ঘটনার সময় তিন যাত্রীকে প্রটোকল দিতে আসা অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির দুজন কর্মকর্তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ওই মুচলেকায় তারা উল্লেখ করেছেন যে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তারা প্রটোকল দিতে এসেছিলেন এবং জব্দকৃত পণ্যের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এই চাঞ্চল্যকর বিষয়ে মন্তব্য জানতে মেহজাবীন চৌধুরী, আদনান আল রাজীব ও শঙ্খ দাসগুপ্তের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি। পরবর্তীতে একটি অনুষ্ঠানে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মেহজাবীন চৌধুরী বিষয়টি ব্যক্তিগত উল্লেখ করে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এমন নীরবতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইনের শিথিল প্রয়োগ নিয়ে সাধারণ মহলে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন