বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বাংলাকে যদি প্রকৃত অর্থে ধারণ করতে হয় এবং বাংলা ভাষাকে মায়ের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান পরিহার করতে হবে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ বা ইনকিলাব মঞ্চ — এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো সেই পক্ষের ভাষা যারা একসময় আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। এটি আমাদের শিক্ষকদের ব্যর্থতা যে আজ আমাদের সন্তানদের মুখেও এই ভাষা শোনা যাচ্ছে।” মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার স্মৃতিচারণ করে তিনি আক্ষেপের সঙ্গে জানান, সমাজ পরিবর্তনের যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধে গিয়েছিলেন, বর্তমানে তার উল্টো চিত্র দেখে তিনি ব্যথিত।
সমালোচনার আশঙ্কা প্রকাশ করে ইকবাল হাসান টুকু বলেন, “এসব কথা বললে হয়তো আমাকে নির্দিষ্ট কোনো দেশের দালাল বানানো হবে। তারপরও সত্য বলতে আমি দ্বিধা করব না, কারণ দেশের টানেই আমি জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম এবং আজ মন্ত্রী হয়েছি।”
ব্রিটিশ আমলের শোষণ ও ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, তরুণদের সচেতন হতে হবে, অন্যথায় দেশ উগ্রপন্থার দিকে ধাবিত হতে পারে। ব্রিটিশরা এ দেশের ভাষা ও সংস্কৃতিকে অবদমিত করে শোষণের যে নীল নকশা করেছিল, তার বিরুদ্ধেই ৫৪ ও ৭১-এর আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, নিজের ভাষা ও দেশ নিজেদেরই গড়তে হবে, অন্য কেউ তা করে দেবে না। মাতৃভাষাকে সঠিকভাবে আত্মস্থ করতে না পারার কারণেই জাতীয়তাবোধ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বিকশিত হয়নি বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে ভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বাংলাকে যদি প্রকৃত অর্থে ধারণ করতে হয় এবং বাংলা ভাষাকে মায়ের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান পরিহার করতে হবে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ বা ইনকিলাব মঞ্চ — এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো সেই পক্ষের ভাষা যারা একসময় আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। এটি আমাদের শিক্ষকদের ব্যর্থতা যে আজ আমাদের সন্তানদের মুখেও এই ভাষা শোনা যাচ্ছে।” মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার স্মৃতিচারণ করে তিনি আক্ষেপের সঙ্গে জানান, সমাজ পরিবর্তনের যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধে গিয়েছিলেন, বর্তমানে তার উল্টো চিত্র দেখে তিনি ব্যথিত।
সমালোচনার আশঙ্কা প্রকাশ করে ইকবাল হাসান টুকু বলেন, “এসব কথা বললে হয়তো আমাকে নির্দিষ্ট কোনো দেশের দালাল বানানো হবে। তারপরও সত্য বলতে আমি দ্বিধা করব না, কারণ দেশের টানেই আমি জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম এবং আজ মন্ত্রী হয়েছি।”
ব্রিটিশ আমলের শোষণ ও ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, তরুণদের সচেতন হতে হবে, অন্যথায় দেশ উগ্রপন্থার দিকে ধাবিত হতে পারে। ব্রিটিশরা এ দেশের ভাষা ও সংস্কৃতিকে অবদমিত করে শোষণের যে নীল নকশা করেছিল, তার বিরুদ্ধেই ৫৪ ও ৭১-এর আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, নিজের ভাষা ও দেশ নিজেদেরই গড়তে হবে, অন্য কেউ তা করে দেবে না। মাতৃভাষাকে সঠিকভাবে আত্মস্থ করতে না পারার কারণেই জাতীয়তাবোধ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বিকশিত হয়নি বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে ভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন