মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আগের শুল্ক ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে পণ্য আমদানির ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশ জারি করেছে।
গত শুক্রবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করে এই নতুন শুল্ক আরোপের আদেশে স্বাক্ষর করেন। আগামী মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে পরবর্তী ১৫০ দিনের জন্য এই নিয়ম কার্যকর হবে। মূলত দেশের বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্টকে সাময়িকভাবে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় এই আইনটি।
এর আগে ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, দেশটির সর্বোচ্চ আদালত তা বাতিল করে দেন। আদালত জানায়, ওই আইনের অধীনে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। তবে আদালতের এই রায়ের পরপরই নতুন আইনি পথে হেঁটে ট্রাম্প তাঁর বাণিজ্য নীতি বজায় রাখার ঘোষণা দিলেন।
নতুন এই ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর কার্যকর হবে। তবে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় থাকা মেক্সিকো ও কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্য এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া জরুরি ওষুধ, অ্যারোস্পেস সরঞ্জাম, যাত্রীবাহী গাড়ি, হালকা ট্রাক এবং বিশেষ কিছু খনিজ ও কৃষিপণ্যকে এই তালিকায় রাখা হয়নি।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে আগের শুল্ক বাবদ আদায় করা প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়া নিয়ে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম এই অর্থকে ‘অবৈধ অর্থ ছিনতাই’ আখ্যা দিয়ে সুদে-আসলে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আইনি লড়াই চলবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অবশ্য পরিস্থিতির সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি জানান, আদালতের রায়ে রাজস্বের যে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, নতুন এই শুল্ক আরোপের ফলে তা পূরণ হবে।
তবে ট্রাম্পের এই আকস্মিক পদক্ষেপে বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কানাডীয় চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডাস লেং দেশটিকে কঠোর বাণিজ্যিক চাপের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপের ওপর গভীর নজর রাখছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের রায়ে আগের ব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও ট্রাম্পের নতুন কৌশল বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধকে আরও উসকে দিল।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আগের শুল্ক ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে পণ্য আমদানির ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশ জারি করেছে।
গত শুক্রবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করে এই নতুন শুল্ক আরোপের আদেশে স্বাক্ষর করেন। আগামী মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে পরবর্তী ১৫০ দিনের জন্য এই নিয়ম কার্যকর হবে। মূলত দেশের বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্টকে সাময়িকভাবে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় এই আইনটি।
এর আগে ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, দেশটির সর্বোচ্চ আদালত তা বাতিল করে দেন। আদালত জানায়, ওই আইনের অধীনে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। তবে আদালতের এই রায়ের পরপরই নতুন আইনি পথে হেঁটে ট্রাম্প তাঁর বাণিজ্য নীতি বজায় রাখার ঘোষণা দিলেন।
নতুন এই ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর কার্যকর হবে। তবে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় থাকা মেক্সিকো ও কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্য এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া জরুরি ওষুধ, অ্যারোস্পেস সরঞ্জাম, যাত্রীবাহী গাড়ি, হালকা ট্রাক এবং বিশেষ কিছু খনিজ ও কৃষিপণ্যকে এই তালিকায় রাখা হয়নি।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে আগের শুল্ক বাবদ আদায় করা প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়া নিয়ে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম এই অর্থকে ‘অবৈধ অর্থ ছিনতাই’ আখ্যা দিয়ে সুদে-আসলে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আইনি লড়াই চলবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অবশ্য পরিস্থিতির সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি জানান, আদালতের রায়ে রাজস্বের যে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, নতুন এই শুল্ক আরোপের ফলে তা পূরণ হবে।
তবে ট্রাম্পের এই আকস্মিক পদক্ষেপে বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কানাডীয় চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডাস লেং দেশটিকে কঠোর বাণিজ্যিক চাপের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপের ওপর গভীর নজর রাখছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের রায়ে আগের ব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও ট্রাম্পের নতুন কৌশল বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধকে আরও উসকে দিল।

আপনার মতামত লিখুন