ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ট্রাম্পের ‘পাল্টা শুল্ক’ অবৈধ ঘোষণা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের: নতুন ১০% শুল্কের হুঁশিয়ারি


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ট্রাম্পের ‘পাল্টা শুল্ক’ অবৈধ ঘোষণা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের: নতুন ১০% শুল্কের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত বিতর্কিত ‘পাল্টা শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত জানান, প্রেসিডেন্ট এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরপরই ট্রাম্প সব দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছেন।

মার্কিন সর্বোচ্চ আদালতের ৯ জন বিচারপতির মধ্যে ৬ জনই ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিপক্ষে মত দেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট যে শুল্ক বসিয়েছিলেন, সেই আইন তাকে এমন কোনো ঢালাও ক্ষমতা প্রদান করে না। আদালতের এই আদেশের ফলে গত বছরের ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া অতিরিক্ত শুল্ক ব্যবস্থাটি বাতিল হয়ে গেল।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই রায়কে ‘জাতির জন্য অসম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেন। বিচারপতিরা ‘বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা’ করছেন বলে দাবি করে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি বিকল্প আইনি পথ ব্যবহার করে বিশ্বের সকল দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক কার্যকর করবেন।

বাংলাদেশের জন্য এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যের ওপর রেকর্ড ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার পর চলতি মাসের শুরুতে তা ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। আদালতের রায়ে এই ১৯ শতাংশ বাড়তি শুল্ক এখন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের নতুন ঘোষিত ১০ শতাংশ শুল্ক যোগ হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে মোট শুল্কের হার কত দাঁড়াবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। পূর্বে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ নিয়মিত শুল্কের সঙ্গে এই নতুন হার যুক্ত হলে তা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

মার্কিন অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ইওয়াই-পার্থেনন’-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো জানান, আদালতের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্ক হার ১৬.৮ শতাংশ থেকে কমে সাময়িকভাবে ৯.৫ শতাংশে নামতে পারে। তবে ট্রাম্পের নতুন ১০ শতাংশ শুল্কের জেদ এই স্বস্তিকে দীর্ঘস্থায়ী হতে দেবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন এবং ১৯৬২ সালের বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইন ব্যবহার করে তিনি আরও কঠোরভাবে শুল্ক আদায়ের পথে হাঁটবেন। তবে ভারতের মতো কিছু দেশের সঙ্গে করা বিশেষ বাণিজ্য চুক্তিগুলো বহাল থাকতে পারে বলেও তিনি জানান। ট্রাম্পের এই ‘শুল্ক কূটনীতি’ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি অর্থনীতির ওপর কালো মেঘ তৈরি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ট্রাম্পের ‘পাল্টা শুল্ক’ অবৈধ ঘোষণা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের: নতুন ১০% শুল্কের হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত বিতর্কিত ‘পাল্টা শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত জানান, প্রেসিডেন্ট এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরপরই ট্রাম্প সব দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছেন।

মার্কিন সর্বোচ্চ আদালতের ৯ জন বিচারপতির মধ্যে ৬ জনই ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিপক্ষে মত দেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট যে শুল্ক বসিয়েছিলেন, সেই আইন তাকে এমন কোনো ঢালাও ক্ষমতা প্রদান করে না। আদালতের এই আদেশের ফলে গত বছরের ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া অতিরিক্ত শুল্ক ব্যবস্থাটি বাতিল হয়ে গেল।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই রায়কে ‘জাতির জন্য অসম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেন। বিচারপতিরা ‘বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা’ করছেন বলে দাবি করে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি বিকল্প আইনি পথ ব্যবহার করে বিশ্বের সকল দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক কার্যকর করবেন।

বাংলাদেশের জন্য এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যের ওপর রেকর্ড ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার পর চলতি মাসের শুরুতে তা ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। আদালতের রায়ে এই ১৯ শতাংশ বাড়তি শুল্ক এখন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের নতুন ঘোষিত ১০ শতাংশ শুল্ক যোগ হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে মোট শুল্কের হার কত দাঁড়াবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। পূর্বে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ নিয়মিত শুল্কের সঙ্গে এই নতুন হার যুক্ত হলে তা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

মার্কিন অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ইওয়াই-পার্থেনন’-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো জানান, আদালতের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্ক হার ১৬.৮ শতাংশ থেকে কমে সাময়িকভাবে ৯.৫ শতাংশে নামতে পারে। তবে ট্রাম্পের নতুন ১০ শতাংশ শুল্কের জেদ এই স্বস্তিকে দীর্ঘস্থায়ী হতে দেবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন এবং ১৯৬২ সালের বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইন ব্যবহার করে তিনি আরও কঠোরভাবে শুল্ক আদায়ের পথে হাঁটবেন। তবে ভারতের মতো কিছু দেশের সঙ্গে করা বিশেষ বাণিজ্য চুক্তিগুলো বহাল থাকতে পারে বলেও তিনি জানান। ট্রাম্পের এই ‘শুল্ক কূটনীতি’ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি অর্থনীতির ওপর কালো মেঘ তৈরি করেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ